
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেডাররা বড়দিনের ছুটি শেষে ফিরলেও বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বক্সিং ডে-র ছুটির কারণে কার্যক্রম সীমিত। জাপান ও চীনের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারেও তেমন তথ্য না থাকায় বাজারের গতি আরও কমেছে।
মার্কিন ডলার ও সোনার দর সামান্য বেড়েছে, আর প্রধান মুদ্রা ও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মুদ্রাগুলোর দর স্থির রয়েছে। অপরিশোধিত তেল ও ক্রিপ্টোকারেন্সির দর কমেছে, আর এশিয়া-প্যাসিফিকের শেয়ারবাজার নিম্নমুখী। এর পাশাপাশি, চীন, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে বছরশেষের ছুটির আমেজে বাজারের প্রতিক্রিয়া এখনো সীমিত।
বাজারে লেনদেনের গতি কম থাকলেও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) নমনীয় অবস্থানের সঙ্গে ফ্রান্স ও জার্মানির রাজনৈতিক অস্থিরতা যুক্ত হওয়ায় EURUSD এখনও চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে ফেডের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত এবং চীন ও ইউরোপের মধ্যে বাড়তে থাকা বাণিজ্য উত্তেজনাও দরপতনের চাপ বাড়াচ্ছে। ইউরোজোনের দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যের কারণে এই অঞ্চলের মুদ্রা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তেমন সমর্থন পাচ্ছে না।
ছুটির কারণে বাজারে সীমিত ওঠানামা এবং মাঝারি গুরুত্বের মার্কিন ডেটার আগে GBPUSD এই সপ্তাহে প্রথম দৈনিক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং Bank of England (BoE) আরও সুদের হার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা এই কারেন্সি পেয়ারের ঊর্ধ্বগতির সম্ভাবনা সীমিত করছে।
ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) গভর্নর কাজুও উয়েদার মন্তব্যে নীতির কড়াকড়ির পক্ষের বিনিয়োগকারীরা হতাশ হওয়ায় USDJPY-তে টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। তবে, জাপানে সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইতিবাচক আউটপুট গ্যাপ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই পেয়ারের ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে এবং ট্রেডিং সেশনটি অনিশ্চিত রয়েছে।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ান, নিউজিল্যান্ড ও কানাডিয়ান ডলারের ওপর চাপ রয়েছে। চীনের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ডোভিশ সংকেত অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ড ডলারকে চাপে রেখেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, AUDUSD ও NZDUSD বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে, অপরিশোধিত তেলের পুনরুদ্ধার থমকে যাওয়ায় USDCAD চার দিনের পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বাজারের অনিশ্চয়তা থেকে সোনা সুবিধা পাচ্ছে, কারণ ঐতিহ্যগত নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে এর আকর্ষণ রয়েছে। সোনার বার্ষিক চাহিদা বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের আরও শক্তিশালী হওয়া নিয়ে সংশয় এর ঊর্ধ্বমুখী গতি বাড়াচ্ছে।
ভূরাজনৈতিক কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কাজে লাগিয়ে অপরিশোধিত তেলের দর বাড়ানো কঠিন হচ্ছে। চাহিদা নিয়ে চীনের পূর্বাভাস এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলার বাজারের মনোভাবকে চাপে ফেলছে। এ ছাড়া, টানা তিন দিনের দরবৃদ্ধির পর ক্রেতারাও সতর্ক রয়েছেন এবং পরবর্তী দিকনির্দেশনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক মজুতের তথ্যের অপেক্ষা করছেন।



হালকা ট্রেডিং ও ছুটির আমেজের মধ্যে ট্রেডাররা বছরের শুরু থেকে হওয়া মুনাফার কিছুটা তুলে নেওয়ায় Bitcoin (BTCUSD) তিন দিনের মধ্যে প্রথমবার লোকসানে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, Ethereum (ETHUSD)-এর তিন দিনের দরবৃদ্ধির ধারাও শেষ হয়েছে। ক্রিপ্টো স্টেকিংয়ের ওপর কর আরোপ এবং বড় বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিক্রির আশঙ্কা বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে। তবে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে এই খাতে সহায়তার প্রত্যাশা এবং রাশিয়া ও MicroStrategy-র জোরালো ক্রিপ্টো চাহিদা আশাবাদ জুগিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ ধরে রাখতে সাহায্য করছে।
বছরশেষের ট্রেডিংয়ে বাজারের গতি কমে যেতে পারে। তবে সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মাঝারি-গুরুত্বের ডেটা মোমেন্টাম ট্রেডারদের জন্য কিছু সুযোগ তৈরি করতে পারে—বিশেষ করে বড়দিনের ছুটির পর মার্কিন ট্রেডাররা বাজারে ফিরলে। উল্লেখযোগ্য ডেটার মধ্যে রয়েছে ডিসেম্বরের Swiss ZEW Survey, যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক Jobless Claims এবং EIA Crude Oil Inventories।
ফেডের hawkish অবস্থানের মধ্যে মার্কিন ডলারের বাড়তি দর ধরে রাখার কথা, তবে তথ্য হতাশাজনক হলে তা নাও হতে পারে। USDCHF-এ নিম্নমুখী চাপ আসতে পারে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ এবং ECB-র dovish অবস্থানের চাপে EURUSD-এর ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম। ছুটির সময় বাজারের স্থিতিশীলতার কারণে GBPUSD সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে, আর USDJPY দৃঢ় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Antipodean মুদ্রাগুলোর (AUDUSD, NZDUSD এবং USDCAD) নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, Gold ও ক্রিপ্টো ক্রেতাদের আশাবাদী থাকা উচিত। তবে Crude Oil-এর দর আরও কমতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!