
বাজারের মনোভাব মিশ্র হলেও সামান্য ইতিবাচক। ট্রেডাররা অস্থির 2024 সালের শেষের দিকে তাকিয়ে আছেন; নজরে রয়েছে সোনার দর বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। চীন থেকে আসা ইতিবাচক খবর এশিয়ার বাজারের মনোভাবকে চাঙা করেছে, অন্যদিকে জাপানের ডেটার কারণে USDJPY কয়েক সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নেমে এসেছে।
মার্কিন ডলার দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, আর EURUSD ও GBPUSD নিচের দিকে আছে। AUDUSD ও NZDUSD বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ের দিকে নামছে, আর টানা চার দিনের পতনের ধারা থামিয়ে USDCAD সামান্য বেড়েছে। এদিকে, চার দিনের মধ্যে প্রথমবার লোকসানের পর ক্রুড অয়েল দিক নির্ধারণে হিমশিম খাচ্ছে, ওয়াল স্ট্রিটে লেনদেন মিশ্র ছিল এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো বৃহস্পতিবারের লোকসান পুষিয়ে নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্ব ভাতার দাবির পরিসংখ্যান মিশ্র এবং ওয়াল স্ট্রিটে লেনদেন দুর্বলভাবে শেষ হলেও, কঠোর অবস্থানে থাকা Fed এবং বছরশেষের পজিশন সমন্বয়ের জেরে US Dollar সপ্তাহে দরবৃদ্ধি নিয়ে শেষ করতে পারে। Greenback-এর শক্তি EURUSD ও GBPUSD-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এর পেছনে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের নেতিবাচক পরিস্থিতির পাশাপাশি European Central Bank (ECB) এবং Bank of England (BoE)-এর নমনীয় অবস্থানও ভূমিকা রাখছে।
টোকিওর মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) Summary of Opinions থেকে 2025 সালে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত মেলায়, পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ থেকে USDJPY পিছিয়ে এসেছে। বাজারের মিশ্র মনোভাব ইয়েন পেয়ারের ক্রেতাদের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে।
AUDUSD ও NZDUSD টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে এবং গত সপ্তাহে চিহ্নিত বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর পেছনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংক (RBA) এবং নিউজিল্যান্ডের রিজার্ভ ব্যাংক (RBNZ) সম্পর্কে dovish মনোভাব। এদিকে, বিশ্বব্যাংক ও চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (NBS) পূর্বাভাসে চীনের প্রবৃদ্ধি জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও, অস্ট্রেলিয়ান ডলার ও নিউজিল্যান্ড ডলারের জুটি সেই আশাবাদে ভর করে বাড়তে পারেনি। একাধিক পদক্ষেপ ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আশ্বাস সত্ত্বেও চীন তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে কি না, সে বিষয়ে আস্থার অভাবও এই জুটিগুলোর পতনের কারণ হতে পারে।
একইভাবে, সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সাম্প্রতিক অপরিশোধিত তেলের দাম কমার কারণে পণ্যনির্ভর মুদ্রাগুলোর দুর্বলতা USDCAD-এ প্রতিফলিত হয়েছে।
শুক্রবারের শুরুতে গতি কমে যাওয়া সত্ত্বেও, 2010 সালের পর এ বছর সোনার সবচেয়ে বড় দরবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূল্যবান এই ধাতুতে প্রচলিত নিরাপদ বিনিয়োগের প্রতি বাজারের আস্থার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ভারত ও চীনের মতো বড় ক্রেতাদের বাড়তি কেনাকাটা এতে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি, মুদ্রানীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কাও—বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর—সোনার চাহিদা বাড়াচ্ছে।



টানা তিন দিনের দরবৃদ্ধির ধারা শেষ হওয়ার পর ক্রুড অয়েল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। US Dollar শক্তিশালী হওয়ায় এবং দাম বাড়াতে OPEC+-এর সক্ষমতা সীমিত—এমন উদ্বেগে দামে চাপ পড়েছে, যদিও সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, শুক্রবারের শুরুতে সামান্য বাড়ার আগে Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD) এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক দরপতন দেখেছে। বছরশেষের দর সমন্বয়ের মধ্যে, শিল্পের জন্য ইতিবাচক খবর ও ETF-এ বেশি অর্থপ্রবাহের সুবিধা নিতে শীর্ষ ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো হিমশিম খাচ্ছে।
সামনে নভেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্য ভারসাম্য ও পাইকারি মজুতের তথ্য, পাশাপাশি ক্রুড অয়েল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সাপ্তাহিক মজুতের তথ্য প্রকাশিত হবে—যা ইন্ট্রাডে ট্রেডারদের ব্যস্ত রাখবে। তবে, বছরের শেষের ট্রেডিংয়ে ধীরগতি এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রভাবকের অভাবে বড় ধরনের দরপরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তা সত্ত্বেও, US Dollar ও সোনা শক্তিশালী থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং 2024 সাল ইতিবাচকভাবে শেষ করতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!