
বৃহস্পতিবারের Thanksgiving এবং Black Friday-তে বাজারের কার্যক্রম ধীর হয়ে আসে। অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না থাকা এবং ভূরাজনৈতিক খবরের মিশ্র প্রভাব অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না, ফলে বাজারে সতর্কতা বজায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডলার ইনডেক্স (DXY) চাপের মধ্যে রয়েছে। এদিকে, চীনের আরও অর্থনৈতিক প্রণোদনার পরিকল্পনার কারণে আংশিকভাবে সোনার দাম বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক অর্থনৈতিক তথ্য এবং ঝুঁকি এড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া খবর সত্ত্বেও Thanksgiving ছুটির দিনে ট্রেডিংয়ে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ ছিল। তবে, S&P Global Ratings-এর ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকের পূর্বাভাসে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এতে Fed-এর সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যেতে পারে, যা ডলার আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশাকে সমর্থন করছে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন সতর্ক করেছেন, ইউক্রেন পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হলে এর গুরুতর পরিণতি হবে। এদিকে, চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাড়তে থাকা শুল্কের বিরুদ্ধে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে। এতে সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার ইউরোপের বাজারের মনোভাব এবং জার্মানির মূল্যস্ফীতির তথ্য মিশ্র হওয়ায় EURUSD-এর ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দুর্বলতা, মাসশেষের দর স্থিতিশীল হওয়া এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য ফ্রাঁসোয়া ভিলেরোয়া দ্য গালোর hawkish মন্তব্য—এসবের ফলে শুক্রবারের শুরুর দিকে EURUSD টানা চার সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির পথে এগোয়।
মার্কিন ডলারের দর কমায় GBPUSD তার EUR সমপর্যায়ের মুদ্রার গতিপথ অনুসরণ করছে এবং টানা নয় সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধি অর্জনের পথে রয়েছে। যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও এমনটি হচ্ছে; সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে একসময়ের বৈশ্বিক আর্থিক নেতৃত্বদানকারী দেশের দুরবস্থার চিত্র উঠে এসেছে।
জাপানে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ায় hawkish Bank of Japan (BoJ) নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, আর USDJPY-তে বিক্রেতারা নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। ইয়েনকে সুরক্ষা দিতে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং এর safe-haven মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কাও পেয়ারটির ওপর নিম্নমুখী চাপ বাড়াচ্ছে। এর আগে, জাপানের শিল্পমন্ত্রী সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিকস খাতের প্রকল্পসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সর্বোচ্চ 100 বিলিয়ন ইয়েন সহায়তার ঘোষণা দেন। তা সত্ত্বেও, জাপানের ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন ও রিটেইল সেলস প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল ছিল। তবে, টোকিওতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতির তথ্য USDJPY-কে নিচে ঠেলে দিয়েছে, যা নিম্নমুখী মনোভাবকে আরও জোরদার করেছে।
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার ডলারসহ কমোডিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুদ্রাগুলো দুর্বল US Dollar এবং নিজ নিজ দেশের কিছুটা শক্তিশালী অর্থনৈতিক তথ্য থেকে সুবিধা পাচ্ছে। ফলে AUDUSD ও NZDUSD সপ্তাহ শেষে দরবৃদ্ধির পথে রয়েছে। অন্যদিকে, টানা তিন দিন কমলেও USDCAD সপ্তাহের শুরুর দিকের দরবৃদ্ধি পুষিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংকের (RBA) গভর্নর মিশেল বুলক আরও সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা নাকচ করে বলেছেন, “মূল্যস্ফীতি এখনও এতটাই বেশি যে স্বল্পমেয়াদে সুদের হার কমানোর কথা বিবেচনা করা যায় না।” এদিকে, নিউজিল্যান্ডের নভেম্বরের ভোক্তা আস্থা গত 3 বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা NZDUSD ক্রেতাদের সমর্থন জুগিয়েছে; তবে সূচকটি এখনও 100-এর সীমার নিচে রয়েছে।



যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দরপততি এবং বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগসহ মিশ্র ভূরাজনৈতিক খবরের সমর্থনে সোনার দাম আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছে। তবে চার মাসের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর ছুটির কারণে বাজারে গতি কমে যাওয়া, মাসশেষের লেনদেনের প্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মিশ্র সংকেত ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
OPEC+ 05 ডিসেম্বরের স্থগিত বৈঠকে 2025 সালের প্রথম প্রান্তিকে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে আলোচনা করতে পারে—এমন খবরের পর অপরিশোধিত তেলের দর সামান্য বেড়েছে এবং সাপ্তাহিক লোকসান পুষিয়ে নিচ্ছে।
Bitcoin (BTCUSD) সাপ্তাহিক লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিচ্ছে, আর Ethereum (ETHUSD) টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে বাড়ছে। Trump-কে ঘিরে আশাবাদ নতুন করে মূল্যায়ন এবং Ethereum-এর প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক আগ্রহ বাড়ার কারণে ETHUSD-তে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। এদিকে Bitcoin-এর ক্রেতারা আপাতত বিরতি নিচ্ছেন।
সামনে, থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের পর মার্কিন ট্রেডারদের ফিরে আসার পাশাপাশি কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের GDP, জার্মানির খুচরা বিক্রয় এবং ইউরোজোনের মূল্যস্ফীতির তথ্য ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে বাজারের অংশগ্রহণকারীদের ব্যস্ত রাখবে। তবে ছুটির আমেজ, মাসের শেষের দিকে কনসোলিডেশন এবং শনিবার চীনের PMI তথ্য প্রকাশের আগে সতর্কতা বাজারের গতি সীমিত করতে পারে।
হকিশ Fed-সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি এবং মার্কিন অর্থনীতির soft landing নিয়ে আলোচনা সত্ত্বেও মার্কিন ডলার সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছে। বড় কোনো তথ্য বা ঘটনা না থাকলে, ভূরাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক উত্তেজনা না বাড়া পর্যন্ত ডলারের ওপর চাপ থাকতে পারে। এতে EURUSD, GBPUSD বা অন্যান্য প্রধান কারেন্সি পেয়ারে বড় ধরনের নড়াচড়া নাও হতে পারে, তবে USDJPY-তে বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
ক্রুড অয়েলের দর ঘুরে দাঁড়ানো এবং কানাডার ইতিবাচক মূল্যস্ফীতি ও GDP ডেটার কারণে USDCAD আরও কমতে পারে। জোরালো গতি না থাকলেও সোনায় কেনার আগ্রহ অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে, সরবরাহ ও চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ক্রুড অয়েলের দর বাড়তে বাধা পেতে পারে।
ছুটির মৌসুমে খুচরা বিক্রির আশাবাদে শেয়ারবাজারে উত্থান অব্যাহত থাকতে পারে, আর ক্রিপ্টোতে সতর্কভাবে কেনাকাটা হতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!