লগ আউট
Are you sure you want to exist?

স্টক চার্টের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং তা পড়ার কিছু পরামর্শ

আপনি যখন স্টক ট্রেডিং শুরু করতে যাচ্ছেন, তখন শুরুতেই কয়েকটি জরুরি বিষয় শিখে নেওয়া দরকার। শেয়ারে বিনিয়োগের যাত্রা শুরু করুন শেয়ারের দামের ওঠানামা কীভাবে হয় তা বোঝার মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে স্টক চার্ট কাজে আসবে।

None

এখানে প্রধান বাধা হলো, বেশিরভাগ নতুন ট্রেডার জানেন না কীভাবে স্টক চার্ট পড়তে হয়, কোন দিক ও প্যারামিটার বিবেচনা করতে হয়, কিংবা এগুলো কীভাবে কাজ করে। এই জ্ঞান সফলতার চাবিকাঠি, কারণ চার্ট পড়লে ট্রেডিং সহজ হয় এবং বাজারের গতিবিধি আঁচ করা সহজ হয়।

শুরু থেকেই প্রক্রিয়াটি যেন কম বিভ্রান্তিকর ও কঠিন মনে হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই নিবন্ধটি লেখা হয়েছে।

শেয়ারের চার্ট পড়ার অর্থ কী?

শেয়ারের কোট নামেও পরিচিত চার্টের মাধ্যমে ট্রেডাররা বাস্তব বাজার পরিস্থিতিতে শেয়ারের পারফরম্যান্স বুঝতে পারেন। অন্য কথায়, কোনো অ্যাসেটের ক্ষেত্রে আসলে কী ঘটছে এবং নিকট ভবিষ্যতে সেটির পারফরম্যান্স কেমন হতে পারে, তা আপনি দেখতে পারেন।

শেয়ারের চার্ট পড়তে হলে এর প্রাথমিক বিষয়গুলো জানা জরুরি। বাজার কীভাবে কাজ করে, তা জানার পাশাপাশি বিভিন্ন টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, সেটাও জানতে হবে। এ ছাড়া, প্রতিটি শেয়ারের জন্য আলাদা কোট পেজ (চার্ট) থাকে। এতে অ্যাসেট সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্যের পাশাপাশি দামের ওঠানামা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যায়।

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

শেয়ারের চার্টে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

এই তথ্য কীভাবে পড়তে হয় তা বুঝতে হলে শেয়ারের চার্টের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে আরও জানতে হবে। সাধারণত এর মধ্যে রয়েছে:

  • দাম ও ভলিউম।
  • মুভিং অ্যাভারেজসহ শেয়ারের চার্ট।
  • আপেক্ষিক শক্তির রেখা।

এখন প্রতিটি বিষয় আরও ভালোভাবে দেখে নেওয়া যাক, যাতে বোঝা যায় এগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কোট পেজ পড়তে কীভাবে সাহায্য করতে পারে।

দাম ও ভলিউম

প্রতিটি শেয়ারের চার্টকে দুটি মৌলিক অংশে ভাগ করা যায়: দাম ও ভলিউম। ভলিউম হলো বাজারে ট্রেড হওয়া মোট শেয়ারের পরিমাণ। মূল বিষয় হলো, এই দুটি অংশকে আলাদাভাবে নয়, একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা। এতে আপনি নির্দিষ্ট কোনো শেয়ারের পেছনের চিত্র বুঝতে পারবেন। কোনো ট্রেডার শুধু দামের অংশটি দেখলে, অ্যাসেটটি কেনা বা বেচার চাপ কতটা বেশি তা কখনোই বুঝতে পারবেন না, কারণ ভলিউম সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ।

MetaTrader4-এর ওয়েব সংস্করণে ডেমো অ্যাকাউন্টের একটি স্ক্রিনশটে আপনি দাম ও ভলিউমের অংশগুলো দেখতে পাবেন। চার্টে OBV দেখতে, উপরের টুলবার থেকে ‘Insert’ নির্বাচন করুন, তারপর Indicators -> Volumes -> On Balance Volume-এ যান।

None

উদাহরণ: কোনো শেয়ারের দাম দিনে 2% কমতে দেখলে আপনি বিচলিত ও উদ্বিগ্ন হতে পারেন। কিন্তু ভলিউমের অংশে যদি দেখা যায়, “শেয়ারটির ভলিউম গড়ের চেয়ে অনেক কম”, তাহলে চিত্রটি বদলে যায়। এর অর্থ, বড় ট্রেডাররা অ্যাসেটটি নিয়ে আক্রমণাত্মকভাবে ট্রেড করছেন না; বরং অপেক্ষা করছেন। সম্ভবত আপনারও তাই করা উচিত।

মুভিং অ্যাভারেজসহ শেয়ারের চার্ট

মুভিং অ্যাভারেজের রেখা থাকা কোট পেজে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারের দাম পর্যবেক্ষণ করা যায়। এ ছাড়া, বড় ট্রেডারদের সমর্থন পাওয়া শেয়ারে ট্রেড করলে এই রেখাগুলো বোঝার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে যখন বড় ট্রেডাররা আগ্রাসীভাবে বিক্রি করার প্রবণতা দেখান।

যেসব শেয়ারে ট্রেডার বা বিপুল ক্রয়ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সমর্থন রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এটি বেশ কার্যকর। তাদের বিপুল ক্রয়ক্ষমতার কারণে শেয়ারের দাম দ্রুত অনেকটা বাড়তে বা কমতে পারে।

MetaTrader4-এর ওয়েব সংস্করণে ডেমো অ্যাকাউন্টের একটি স্ক্রিনশটে আপনি মুভিং অ্যাভারেজ ইন্ডিকেটর দেখতে পাবেন। চার্টে মুভিং অ্যাভারেজ দেখতে, উপরের টুলবার থেকে ‘Insert’ নির্বাচন করুন, তারপর Indicators -> Trend -> Moving Average-এ যান।

None

শেয়ারের দাম নির্দিষ্ট বেঞ্চমার্কের নিচে নেমে গেলে, সাধারণত এর অর্থ বড় বিনিয়োগকারীরা আর অ্যাসেটটিকে পছন্দ করছেন না। আপনার অন্য কোনো ইনস্ট্রুমেন্টে ট্রেড করা ভালো।

নোট: বড় ধরনের দরপতন এড়াতে, মুভিং অ্যাভারেজের রেখাগুলোর আশপাশে শেয়ারের দামের ওঠানামার দিকে নজর রাখুন।

আপেক্ষিক শক্তির রেখা

এটি শেয়ারবাজার দ্রুত পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, কোনো শেয়ার পিছিয়ে আছে নাকি এগিয়ে আছে, তা শনাক্ত করতেও এটি সহায়তা করে। S&P 500-এর সঙ্গে দামের পারফরম্যান্স তুলনা করতে RS লাইন ব্যবহার করা হয়।

None

উদাহরণ: আপেক্ষিক শক্তির রেখা খুব দ্রুত ওপরে উঠলে এর অর্থ, শেয়ারটি বাজারের চেয়ে ভালো পারফর্ম করতে পারে। RS লাইন ক্রমাগত নিচের দিকে গেলে বোঝায়, অ্যাসেটটি পিছিয়ে আছে।

শেয়ার চার্ট পড়ার কিছু কার্যকর পরামর্শ

এখন আপনি শেয়ার চার্টের প্রধান উপাদানগুলো সম্পর্কে জানেন। এবার কোট পেজ কীভাবে পড়তে হয়, সে বিষয়ে কিছু প্রাথমিক পরামর্শ দিচ্ছি। সাধারণত, উপরে উল্লেখ করা উপাদানগুলো ব্যবহার করতে হবে।

1. সময়ের অক্ষ ও দামের দিকে নজর রাখুন

প্রতিটি শেয়ার চার্টে দুটি প্রধান অক্ষ থাকে—সময় ও দাম। অনুভূমিক বা নিচের অক্ষটি দেখলে চার্টে দেখানো সময়সীমা বুঝতে পারবেন। এই সময়সীমা 1 দিন থেকে 1 বছর পর্যন্ত হতে পারে। পাশের বা উল্লম্ব অক্ষটি শেয়ারের দাম দেখায়।

এই অক্ষগুলোর দুটি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়কাল এবং সেই সময়ের শেয়ারের দামের ভিত্তিতে ট্রেন্ডের গতিবিধি চার্টে দেখানো যায়।

2. ট্রেন্ড লাইনের দিকে নজর রাখুন

এখানে জটিল কিছু নেই। অন্যদিকে, ট্রেন্ড লাইন সহজেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়, যা আপনাকে শেয়ারের চার্ট থেকে সেই শেয়ার সম্পর্কে যতটা সম্ভব জানতে সাহায্য করে।

ট্রেডারদের জানা উচিত, তারা বিভিন্ন ধরনের ট্রেন্ড লাইনসহ বিভিন্ন চার্ট স্টাইল বেছে নিতে পারেন। যেমন:

  • প্রচলিত লাইন;
  • মাউন্টেন বার;
  • ক্যান্ডেলস্টিক ইত্যাদি।

লাইন স্টাইলের ওপরও চার্ট পড়ার জটিলতা নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, ক্যান্ডেলস্টিকের তুলনায় প্রচলিত লাইন পড়া সহজ। তাই আপনার পরিচিত স্টাইলটি বেছে নেওয়াই ভালো।

৩. ভলিউম নির্ধারণ করুন

এই পর্যায়ে আপনাকে ট্রেডিং ভলিউম শনাক্ত করতে হবে। শেয়ারের চার্ট পড়ার সময় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণত কোট পেজের নিচে লাল বা সবুজ বার হিসেবে ভলিউম দেখতে পাবেন।

আমরা মূলত ভলিউমের স্পাইক খুঁজি। এগুলো ট্রেন্ডের শক্তি এবং ট্রেডিং ভলিউম বাড়ছে না কমছে—সে সম্পর্কে ধারণা দেয়। তবে দাম কমলেও ভলিউম বেশি থাকলে বোঝায়, নিম্নমুখী ট্রেন্ড এখনও শক্তিশালী। নিকট ভবিষ্যতে এর বিপরীতও ঘটতে পারে।

সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স

সবশেষে, সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লাইন শনাক্ত করতে হবে। শেয়ার ট্রেডিংয়ে কোনো অ্যাসেটের দাম সাধারণত সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লাইনের মধ্যে ওঠানামা করে। সাপোর্ট লাইন এমন একটি মূল্যস্তর, যার নিচে দাম নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। অন্যভাবে বললে, এই স্তরের নিচে ট্রেড করা থেকে আপনি সুরক্ষিত থাকেন।

রেজিস্ট্যান্স লাইন হলো এর বিপরীত নির্দেশক। এটি এমন মূল্যস্তর দেখায়, যার ওপরে শেয়ার ট্রেড করা ভালো নয়। অন্যভাবে বললে, শেয়ারের দাম ওপরের স্তর ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করলে এই স্তরটি বাধা হিসেবে কাজ করে।

এ প্রসঙ্গে, ফরেক্স চার্টের ধরন সম্পর্কে আরও জানতে পারেন এই লেখায়। শুরুতে শেয়ারের চার্ট পড়া কঠিন মনে হতে পারে, তবে তা মূলত বুনিয়াদি বিষয়গুলো না জানার কারণে। কয়েকটি মৌলিক নির্দেশক বুঝতে পারলে দাম ও ট্রেডিং ভলিউম সহজেই বিশ্লেষণ করতে পারবেন। এ ছাড়া, লাভজনক ট্রেডিং কৌশল তৈরি করতেও এগুলো কার্যকর সহায়ক হতে পারে।

এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।