
ফরেক্স ট্রেডিং কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না? ফরেক্স মার্কেটের প্রধান কারেন্সি পেয়ার নিয়ে নিবন্ধটি পড়ুন! মুদ্রা হলো বিশ্বজুড়ে আস্থাভাজন সবচেয়ে প্রচলিত ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট। মুদ্রার বিনিময় হার কীভাবে পড়তে হয় শিখুন, কারেন্সি পেয়ারে কীভাবে ট্রেড করতে হয় জানুন, মুদ্রা ট্রেড করার সেরা সময় কোনটি এবং কোন কারণে একটি কারেন্সি পেয়ার লিকুইড হয় তা খুঁজে বের করুন।
কারেন্সি পেয়ার হলো দুটি ভিন্ন মুদ্রার বিনিময় দর। যেমন, EURUSD। একটি মুদ্রার মূল্য অন্য মুদ্রার বিপরীতে প্রকাশ করা হয়। পেয়ারে প্রথমে যে মুদ্রাটি থাকে, সেটি বেস কারেন্সি (EUR), আর দ্বিতীয়টি হলো কোট কারেন্সি (USD)। প্রতিটি মুদ্রার জন্য ISO (International Organization for Standardization)-এর নির্ধারিত তিন অক্ষরের একটি প্রতীক রয়েছে। যেমন: USD হলো মার্কিন ডলার, JPY হলো জাপানি ইয়েন, AUD হলো অস্ট্রেলিয়ান ডলার, CAD হলো কানাডিয়ান ডলার এবং GBP হলো ব্রিটিশ পাউন্ড, যা গ্রেট ব্রিটেনের মুদ্রা।

কারেন্সি পেয়ার পড়বেন কীভাবে? EUR/USD = 1.12 কোটেশনের অর্থ হলো, 1 ইউরো দিয়ে 1.12 মার্কিন ডলার বিনিময় করা যায়। দুই মুদ্রার মূল্যের পার্থক্য যে সংখ্যায় প্রকাশ পায়, সেটিই বিনিময় হার। এই ক্ষেত্রে, হারটি 1.12। অর্থাৎ, আপনার কাছে 1 ইউরো থাকলে আপনি 1.12 মার্কিন ডলার কিনতে পারবেন।
তাত্ত্বিকভাবে, যেকোনো মুদ্রা প্রথমে থাকতে পারে। ক্রম উল্টে দিলে বিনিময় হারও উল্টে দেখানো হবে। যেমন, USD/EUR=0.89। তবে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী মুদ্রাটি দুর্বল মুদ্রার আগে থাকে।
বর্তমানে বিশ্বে প্রায় 180টি বৈধ মুদ্রা প্রচলিত আছে। তাত্ত্বিকভাবে, একটি মুদ্রার সঙ্গে অন্য 179টি মুদ্রার বিনিময় করা সম্ভব। MTrading-এ আপনি ট্রেড করতে পারবেন সবচেয়ে জনপ্রিয় 38টি মুদ্রা। বিশ্বে যেসব কারেন্সি পেয়ারে সবচেয়ে বেশি ট্রেড হয়, সেগুলোকে ‘মেজর’ বলা হয়। এসব পেয়ারে ইউরো (EUR), মার্কিন ডলার (USD), জাপানি ইয়েন (JPY), পাউন্ড স্টার্লিং (GBP)সহ আরও কয়েকটি মুদ্রা রয়েছে। ট্রেডিংয়ের জনপ্রিয়তা কমার ক্রমানুসারে কয়েকটি প্রধান কারেন্সি পেয়ার নিচে দেওয়া হলো:

EUR/USD হলো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফরেক্স পেয়ার। এই পেয়ারের মুদ্রা দুটি বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি—ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্বজুড়ে হওয়া ট্রেডের একটি বড় অংশে মার্কিন ডলার ও ইউরো রয়েছে।
USD/JPY হলো বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় কারেন্সি পেয়ার। নামমাত্র GDP অনুযায়ী, জাপানের অর্থনীতি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম। এ ছাড়া, ক্রয়ক্ষমতার সমতা (PPP) অনুযায়ী জাপান চতুর্থ বৃহত্তম এবং দেশটি একটি বড় আন্তর্জাতিক ট্রেডিং কেন্দ্র। তাই বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলো জাপানের অর্থনীতিতে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করে, ফলে JPY-এর চাহিদা বেশি।



GBP/USD পেয়ারটির জনপ্রিয়তার পেছনে যথাক্রমে ব্রিটিশ ও মার্কিন অর্থনীতির শক্তি রয়েছে। যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো করলে GBP/USD সাধারণত বাড়ে। দুই দেশের আর্থিক খাতের কার্যকারিতা স্বাভাবিকভাবেই GBP/USD পেয়ারটির দামে প্রভাব ফেলে।
USD/CHF-এর ক্ষেত্রে, সুইজারল্যান্ড ব্যক্তিগত ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দেশটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধিশালী হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময় ট্রেডাররা জাপানি ইয়েনের মতো সুইস ফ্রাঁও ব্যবহার করে থাকেন।
বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ট্রেড করতে হলে মুদ্রার দামের ওঠানামায় প্রভাব ফেলা প্রধান বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হয়।

ট্রেডিংয়ের সময় এই বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনা করুন:
ফরেক্স মার্কেটে অপ্রত্যাশিত ঘটনার পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন হলেও, জ্ঞাত ট্রেডাররা ভবিষ্যতে কারেন্সির পারফরম্যান্সের ইঙ্গিত হিসেবে বৈশ্বিক ঘটনাগুলো ব্যবহার করেন।
ধরা যাক, আপনি মার্কেট বিশ্লেষণ করে মনে করছেন, কিছু কারণে ইউরো দুর্বল হতে চলেছে। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ঘটনাবলি অনুযায়ী আপনার মনে হচ্ছে EUR-এর বিপরীতে USD শক্তিশালী হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আপনি EURUSD কারেন্সি পেয়ারে আগ্রহী। সাধারণত কারেন্সি পেয়ারের ডান পাশে বিড ও আস্ক প্রাইসের মাধ্যমে দেখানো রেট দেখতে পাবেন। বিড প্রাইস হলো সেই দাম, যে দামে একজন ফরেক্স ট্রেডার কারেন্সি পেয়ারটি বিক্রি করতে প্রস্তুত। আস্ক প্রাইস হলো সেই দাম, যে দামে একজন ট্রেডার কারেন্সি পেয়ারটি কিনবেন। এই দুই প্রাইসই রিয়েল-টাইমে দেখানো হয় এবং ক্রমাগত আপডেট হতে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, EUR/USD পেয়ারের বিড প্রাইস 1.12325 এবং আস্ক প্রাইস 1.12337 হলে, একজন ট্রেডার 1 ইউরো 1.12325 মার্কিন ডলারে বিক্রি করতে পারেন, অথবা 1 ইউরো 1.12337 মার্কিন ডলারে কিনতে পারেন। আস্ক ও বিড প্রাইসের পার্থক্যকে মার্কেট স্প্রেড বলা হয়। এই ক্ষেত্রে স্প্রেড 0.00012। ফরেক্সে স্প্রেড কম হলে ট্রেডার তার লোকসান কমাতে পারেন। সাধারণত, এক্সচেঞ্জ রেট কমবে বলে মনে হলে আপনি বিক্রি করেন, আর বাড়বে বলে আশা করলে কিনে থাকেন।
জেনে নিন ব্রোকারদের গড় স্প্রেড কত, নতুনদের জন্য কোন কারেন্সিগুলো উপযুক্ত এবং নির্দিষ্ট কোনো কারেন্সি ট্রেড করার সেরা সময় কোনটি।
ট্রেডিংয়ের উপযুক্ত সময়: লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক সেশন (06:00 GMT – 17:00 GMT)
ফরেক্স ব্রোকারদের গড় স্প্রেড: 0 – 2 পিপ
দৈনিক ট্রেডিং রেঞ্জের গড়: 90-100 পিপ
নতুনদের জন্য উপযুক্ত। দৈনিক রেঞ্জ বড় হওয়ায় ইন্ট্রাডে ট্রেডিংয়ের জন্য ভালো।

ট্রেডিংয়ের সেরা সময়: লন্ডন ও নিউইয়র্ক সেশন (06:00 GMT – 16:00 GMT), এবং এশিয়ান ট্রেডিং সেশন (22:00 GMT – 04:00 GMT)
ফরেক্স ব্রোকারের গড় স্প্রেড: 2 - 3 পিপ
দৈনিক ট্রেডিং রেঞ্জের গড়: 50 - 100 পিপ
নতুনদের জন্য নয়। যারা সুইং ট্রেডিং ও পজিশন ট্রেডিং করেন, তাদের জন্য USD/JPY ট্রেডিং উপযুক্ত।
ট্রেডিংয়ের উপযুক্ত সময়: লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক সেশন (06:00 GMT – 17:00 GMT)
ফরেক্স ব্রোকারের গড় স্প্রেড: 2-3 পিপ
দৈনিক ট্রেডিং রেঞ্জের গড়: 150-200 পিপ
নতুনদের জন্য উপযুক্ত। বড় ইন্ট্রাডে রেঞ্জের কারণে ইন্ট্রাডে ট্রেডিংয়ের জন্য ভালো। সুইং ও পজিশন ট্রেডাররাও এতে ট্রেড করতে পারেন।
ট্রেডিংয়ের উপযুক্ত সময়: লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক সেশন (06:00 GMT – 17:00 GMT)
ফরেক্স ব্রোকারদের গড় স্প্রেড: 2-3 পিপ
দৈনিক ট্রেডিং রেঞ্জের গড়: 50-70 পিপ
লিকুইডিটি হলো চাহিদা অনুযায়ী কোনো কারেন্সি পেয়ার ট্রেড করার সক্ষমতা। প্রধান কারেন্সি পেয়ারগুলো অত্যন্ত লিকুইড। সারা বিশ্বে প্রতিদিনই এগুলো বড় পরিমাণে কেনাবেচা হয়।
ভাবুন, আপনি কিছু ডলার কিনতে মানি এক্সচেঞ্জে গেলেন। কোনো সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা কম, কারণ মার্কিন ডলার সারা বিশ্বে বহুল প্রচলিত এবং ট্রেড হওয়া একটি কারেন্সি। কিন্তু আপনি যদি দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড কিনতে চান, তাহলে কিছু সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। ধরুন, আপনার প্রয়োজনীয় পরিমাণ র্যান্ড বিক্রি করতে রাজি এমন মাত্র একটি মানি এক্সচেঞ্জ আছে। তাদের বিক্রির ক্ষেত্রে একচেটিয়া সুবিধা থাকায় তারা র্যান্ডের দাম দ্বিগুণ করে দেয়। বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে কারেন্সি না থাকা, চাহিদা কম থাকা এবং কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো র্যান্ডকে ইলিকুইড করে তোলে।
এই কারেন্সি পেয়ারগুলো দেখুন। ফরেক্স মার্কেটে এগুলোই সবচেয়ে বেশি লিকুইড: EUR/USD, GBP/USD, AUD/USD, USD/CAD, USD/CHF, USD/JPY।
ফরেক্সে যেকোনো ইনস্ট্রুমেন্টে ট্রেডিং শুরু করার ভালো উপায় হলো, আপনি যা জানেন তা দিয়ে শুরু করা। কোনো নির্দিষ্ট অর্থনীতি সম্পর্কে আপনার ভালো ধারণা থাকলে, স্বাভাবিকভাবেই সেই দেশের কারেন্সিতে ট্রেড করতে আগ্রহী হতে পারেন—এমনকি সেটি প্রধান কারেন্সি পেয়ারগুলোর একটি না হলেও। সব মিলিয়ে, কারেন্সি ট্রেডিংয়ের সুবিধা—যেমন কম স্প্রেড, ভালো লিভারেজ, অর্থনৈতিক খবরের সহজলভ্যতা এবং বিশ্লেষণধর্মী ডেটা—কারেন্সি ট্রেডিংকে আত্মবিশ্বাস ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি ভালো উপায় করে তোলে।
সঙ্গে থাকুন! আমাদের শিক্ষামূলক বিভাগ-এর আপডেট দেখুন।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।