টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল বিনিয়োগকারী ও ট্রেডারদের জন্য মার্কেট স্ট্রাকচারের ধারণা ও সংজ্ঞা বোঝা অত্যন্ত জরুরি। তবে নতুন ট্রেডারদের কাছে বিষয়টি কখনো কখনো কিছুটা বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। নতুনরা প্রায়ই একে প্রাইস অ্যাকশন বলে ভুল করেন, যা সঠিক নয়। মার্কেট স্ট্রাকচারের সংজ্ঞা প্রাইস অ্যাকশনের অর্থ থেকে আলাদা, যদিও দুটো বিষয় ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

এই প্রবন্ধে আমরা মার্কেট স্ট্রাকচারের সংজ্ঞা, এর প্রধান শ্রেণিবিভাগ এবং প্রাইস অ্যাকশনের সঙ্গে এর পার্থক্য তুলে ধরব।
মার্কেট স্টেট নামেও পরিচিত মার্কেট স্ট্রাকচার, নির্দিষ্ট সময়সীমায় প্রাইস অ্যাকশনের গতিপ্রকৃতি দেখায়। দাম সব সময়ই বাড়ে বা কমে, আর তাতে ওঠানামার একটি নির্দিষ্ট মাত্রা দেখা যায়। এই ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে মার্কেটের স্ট্রাকচার তৈরি হয়, যা দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, এমনকি বার্ষিক সময়সীমার বিভিন্ন ধরনের প্রাইস চার্টে দেখা যায়।
বিনিয়োগকারী ও টেকনিক্যাল ট্রেডারদের মূল কাজ হলো মার্কেটের বিশ্লেষণ অনুসরণ করা এবং বিভিন্ন ইন্ডিকেটর ব্যবহার করে মার্কেট স্ট্রাকচারের প্রধান তিনটি ধরন বিবেচনায় নিয়ে সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা:
সাধারণত, মার্কেট স্ট্রাকচারের শ্রেণিবিভাগ শনাক্ত করা এবং উপযুক্ত কৌশল বেছে নেওয়ার জন্য ট্রেডাররা বিভিন্ন টুল ও ইন্ডিকেটর ব্যবহার করেন। বাই বা সেল পজিশনের মাধ্যমে মার্কেটে প্রবেশের আগে আর্থিক পরিস্থিতি যাচাই করাই প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।



মার্কেট স্ট্রাকচারের শ্রেণিবিভাগ সম্পূর্ণভাবে দামের গতিবিধির ওপর নির্ভর করে। অন্য কথায়, প্রাইস অ্যাকশনই মার্কেট স্ট্রাকচারের ভিত্তি বা মূল উপাদান। এটি নির্দিষ্ট সময়সীমায় কোনো পণ্যের দামের ওঠানামা বর্ণনা করে। পাশাপাশি, এতে ট্রেড করা কোনো সিকিউরিটির মূল্য কীভাবে বদলেছে, তা দেখা যায়।
মার্কেট স্ট্রাকচারের মৌলিক উপাদান হওয়ার পাশাপাশি, প্রাইস অ্যাকশন টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসেরও ভিত্তি। এর মাধ্যমে ট্রেডাররা অতীতে দামের গতিবিধি কেমন ছিল এবং নিকট ভবিষ্যতে দাম কীভাবে চলতে পারে, তা বিশ্লেষণ করতে পারেন।
দামের ওঠানামা ও গতিবিধির সব ধরন দেখার সবচেয়ে ভালো ও নির্ভরযোগ্য উপায় হলো সেগুলো প্রাইস চার্টে দেখানো। বিভিন্ন চার্ট প্যাটার্ন টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের অপরিহার্য অংশ। জনপ্রিয় ধরনগুলোর মধ্যে আপনি হয়তো জাপানি ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্নসহ আরও কিছু প্যাটার্ন দেখেছেন। এগুলোর সবই ট্রেডারদের বুঝতে সাহায্য করে, বাস্তব সময়ে প্রাইস অ্যাকশন কীভাবে এগোতে বা বদলাতে পারে। প্রাইস অ্যাকশনের তিনটি প্রধান অবস্থা বিবেচনা করতে হবে:
মনে রাখার বিষয় হলো, পণ্যের প্রবাহ দামের গতিবিধিকে প্রভাবিত করে। সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য ছাড়িয়ে দাম বাড়তে বা কমতে পারে, আবার কিছু সময়ের জন্য স্থিরও থাকতে পারে। যা-ই ঘটুক, দামের গতিবিধিই বাজারের কাঠামোকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। বাজারের কাঠামো আসলে একটি নির্দিষ্ট দিকে দামের চলাচলের ফল।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।