Scan & Get our app!
Get our app!
Download our app and stay connected on the go.
Scan & Get our app!
Scan QR-code to download our app and stay connected on the go.
অবমূল্যায়ন হলো ইচ্ছাকৃতভাবে মুদ্রার মূল্য কমানোর প্রক্রিয়া। সাধারণত, শক্তিশালী মুদ্রার বিপরীতে ইস্যু করা মুদ্রার মূল্য বাজারকে নির্ধারণ করতে না দিতে কোনো দেশের সরকার এই পদক্ষেপ নেয়। অবমূল্যায়নের আরেকটি কারণ হলো মোট দেশজ উৎপাদন বাড়ানো, যা নির্দিষ্ট একটি দেশের সীমানার মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাত্রা নির্দেশ করে।

এই নিবন্ধে অবমূল্যায়নের প্রধান কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে, পাশাপাশি মুদ্রার জন্য এটি কতটা ভালো বা খারাপ হতে পারে, তাও তুলে ধরা হবে। অবমূল্যায়নের উদাহরণ এবং এটি কীভাবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে, সে বিষয়েও আপনি জানতে পারবেন।
একপর্যায়ে সরকারকে দেশীয় পণ্যের দাম কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সেগুলো আরও সস্তা হয়। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির মুখে পড়তে হবে। এর ফলে রপ্তানি বাড়ে এবং আমদানি কমে। শেষ পর্যন্ত, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে বলে আশা করা হয়।
অন্যভাবে বললে, অবমূল্যায়নের নীতিকে একটি বাণিজ্যবাদী কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা যায়, যা মহামন্দার সময় অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছিল। বর্তমানে, এই নীতি প্রধানত উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো ব্যবহার করে। কারণ, প্রতিষ্ঠিত অর্থনীতিতে না পাওয়া সস্তা পণ্যের সন্ধানে থাকা আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীকে এটি আকৃষ্ট করে। একই সময়ে, স্থানীয় বাসিন্দাদের আয় কম হলেও পণ্যের দাম বাড়ে, ফলে নেতিবাচক পরিণতি তুলনামূলকভাবে কম হয়।
ধরা যাক, আপনি 1 পানামানিয়ান বালবোয়ার বিনিময়ে 1 মার্কিন ডলার কিনতে পারেন। তবে পানামা সরকার বিনিময় হার পরিবর্তন করে মুদ্রার 50% অবমূল্যায়ন করতে পারে। ভোক্তাদের ক্ষেত্রে এর অর্থ, 1 মার্কিন ডলারের দাম হবে 2 পানামানিয়ান বালবোয়া।



অবমূল্যায়নের সব সুবিধা ও অসুবিধা বুঝতে হলে, এই প্রক্রিয়ায় কারা লাভবান এবং কারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন তা চিহ্নিত করতে হবে। একদিকে, মুদ্রার অবমূল্যায়ন থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ কোম্পানি ও বিদেশিরা লাভবান হতে পারেন। অন্যদিকে, দেশের নাগরিকেরা এর নেতিবাচক পরিণতির শিকার হতে পারেন:
পুনর্মূল্যায়ন হলো অবমূল্যায়নের বিপরীত প্রক্রিয়া। এর অর্থ, সরকার একটি স্থির বিনিময় হার পরিবর্তন করে শক্তিশালী আরেকটি মুদ্রার বিপরীতে নিজের মুদ্রার মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পুনর্মূল্যায়নের ফলে বিদেশি ও দেশের বাসিন্দা—উভয়ের জন্যই পণ্যের দাম বেড়ে যায়।
একটি মুদ্রার বিপরীতে অন্য মুদ্রার মূল্য প্রভাবিত করতে দেশগুলো মুদ্রাযুদ্ধ ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি মুদ্রা ট্রেডিংয়ের গতি বাড়াতে পারে, যার ফলে অনিবার্যভাবে অন্য একটি দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়। বিনিময় হার বারবার ওঠানামা করলে উভয় দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে।
কিছু দেশ নিজেদের সীমানার মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে এবং অন্য দেশগুলোতে বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অবনতি ঘটাতে এই উপায় ব্যবহার করে বলে মনে করা হয়। তবে, পূর্ণমাত্রার কোনো মুদ্রাযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত বা ঘোষিত হয়নি।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।