ট্রেডিংয়ে প্রযুক্তিগত ইন্ডিকেটর ব্যবহার না করা প্রচলিত পদ্ধতির একটি বিকল্প। লক্ষ লক্ষ টেকনিক্যাল ট্রেডার বছরের পর বছর ধরে ইন্ডিকেটর ব্যবহার করছেন। তবে এমন একটি পদ্ধতিও আছে, যেখানে ইন্ডিকেটর ব্যবহার না করেই ট্রেড খোলা ও বন্ধ করা যায়। এই পদ্ধতি নতুন নয়। কিছু বিশেষজ্ঞ সফলভাবে এটি প্রয়োগ করে আসছেন।

তাই, এই নিবন্ধে টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর ছাড়া ট্রেডিংয়ের সম্ভাব্য সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করব।
ইন্ডিকেটর থেকে পাওয়া ডেটা ব্যবহার না করে অ্যাসেটের দামের ওঠানামার ভিত্তিতে কারেন্সি কেনাবেচা করাই হলো এই পদ্ধতি। ধারণাটি কিছুটা অদ্ভুত ও নতুন মনে হলেও, অনেক ট্রেডার বছরের পর বছর ধরে এটি ব্যবহার করছেন। বেশিরভাগ মার্কেট পার্টিসিপ্যান্ট ট্রেডিংকে মূলত ইন্ডিকেটরের সঙ্গে যুক্ত করেন, তাই এই পদ্ধতিটি কিছুটা অবমূল্যায়িত।



প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ যে খুবই কাজে লাগে, তা নিয়ে কেউই সন্দেহ করবে না। তবে তার মানে এই নয় যে এটিই একমাত্র পদ্ধতি। ইন্ডিকেটর হলো এমন একটি সফটওয়্যার, যা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আপনাকে সাহায্য করে।
নোট: টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরগুলো অতীতের দামের ওঠানামার তথ্য এবং তা বর্তমান দাম বা ট্রেন্ডকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা ব্যবহার করে।
ইন্ডিকেটর ব্যবহারের কয়েকটি অসুবিধা হলো:
এর বদলে, প্রাইস অ্যাকশন ট্রেডিং বা কোনো টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর ছাড়া ট্রেডিং করা দ্রুততর ও সহজ, তাই নতুনদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প। আপনাকে কোনো স্ট্র্যাটেজি সেট আপ করতে হবে না বা নির্দিষ্ট টুল কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা শিখতে হবে না।
এই পদ্ধতিটি বেছে নেওয়ার পেছনে ট্রেডারদের আরও কিছু কারণ রয়েছে:
দুটি পদ্ধতিই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনিশ্চিত হতে পারে। আপনি যে সিস্টেমই বেছে নিন, অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ের ঝুঁকি ও অর্থ ব্যবস্থাপনার টুল ব্যবহার করা দরকার।
এই কৌশলে বাজারে প্রবেশ ও বের হওয়ার সেরা অবস্থান নির্ধারণের জন্য প্রাইস অ্যাকশন ব্যবহার করা হয়। আপনি যদি স্টোকাস্টিক অসিলেটর ও মুভিং অ্যাভারেজের মতো টুল ব্যবহার করতে না চান, তাহলে নিচের পদ্ধতিগুলো কাজে লাগিয়ে আপনার ট্রেডিং আরও কার্যকর করতে পারেন:
নিচের ধাপগুলো আপনাকে দ্রুত শুরু করতে সাহায্য করবে।
সফলতার চাবিকাঠি হলো মুদ্রাবাজারে কী ঘটছে, তা পুরোপুরি বোঝা। পাশে ইন্ডিকেটর না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন, কারণ কোনো প্রোগ্রামের তৈরি করা তথ্য ব্যাখ্যা করার চেষ্টা না করে আপনি নিজের বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করতে পারেন।
এর ফলে, নতুন ট্রেডাররা ধীরে ধীরে স্বাধীন ট্রেডার হয়ে উঠতে পারেন এবং নিজেদের বিশ্লেষণ ও বিচারবুদ্ধির ওপর আস্থা রাখতে শিখতে পারেন। শুধু ইন্ডিকেটরের ওপর নির্ভর করলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় চোখ এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। নিজে ট্রেড করলে আপনি নিজের সিগন্যাল তৈরি ও বুঝতে শিখবেন এবং এমন ভুল এড়াতে পারবেন, যার জন্য আপনার অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে।
ইন্ডিকেটর ছাড়া ট্রেডিং নতুনদের জন্য একটি ভালো বিকল্প। এতে আবেগ একপাশে রেখে নিজের কৌশলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা শেখার সুযোগ থাকে। তবে ভবিষ্যতে সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে এটি ব্যবহার করার মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞতা নতুনদের নেই। তাই এমন পরিমাণ নিয়ে মার্কেটে প্রবেশ করাই ভালো, যা হারালে আপনি সামলাতে পারবেন। পাশাপাশি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার টুল ব্যবহার করাও জরুরি। একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন, পরিস্থিতি যা-ই হোক তা মেনে চলুন, অথবা রিয়েল টাইমে সেরাদের কাছ থেকে শিখতে কপি ট্রেডিং ব্যবহার করুন।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।