ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিসিসে এমন একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি শেখানো হয়, যা ট্রেডারদের কোনো শেয়ারের অন্তর্নিহিত মূল্য নির্ধারণে সাহায্য করে। এতে একাধিক বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়, যার মধ্যে সাধারণত বিভিন্ন ঘটনা, আর্থিক বিবরণী, শিল্প খাতের প্রবণতা এবং আরও অনেক কিছু থাকে। কোনো কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে তার সম্ভাব্য মূল্য বিশ্লেষণ করতে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা নানা ধরনের ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিসিস টুল ব্যবহার করেন।

এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব কীভাবে মৌলিক বিশ্লেষণ করতে হয়, এটি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ থেকে কীভাবে আলাদা, এবং এই বিশ্লেষণ করতে আপনার কী কী টুল লাগতে পারে।
সহজভাবে বললে, মৌলিক বিষয়গুলো কোনো প্রতিষ্ঠান বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সংস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা তিন ধরনের তথ্যসমষ্টি তৈরি করতে পারেন:
আপনি যদি শেয়ারের মৌলিক বিশ্লেষণ কীভাবে করতে হয়, তা জানতে বেশি আগ্রহী হন, তাহলে মূলত শেয়ারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। যেমন:



এসব বিষয় মৌলিক সূচক হিসেবে কাজ করে এবং সম্ভাব্য প্রভাব বুঝতে সাহায্য করে। প্রভাব নেতিবাচক হলে শেয়ারের দাম কমার সম্ভাবনা খুব বেশি। অন্যদিকে, ইতিবাচক তথ্য এলে দাম ঘুরে দাঁড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। প্রায়ই এটি প্রতিষ্ঠানটির ঘুরে দাঁড়ানোর বা শেয়ারের দাম বাড়ার একটি ইঙ্গিত।
মৌলিক বিশ্লেষণের অনেক ধরনের টুল থাকলেও, বিনিয়োগকারীরা মূলত দুই ধরনের টুল ব্যবহার করেন।
এই ধরনের বিশ্লেষণ সম্পূর্ণভাবে সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। এ ধরনের মৌলিক বিশ্লেষণের টুলের মধ্যে সাধারণত আর্থিক বিবরণী, স্টক ও শেয়ারের দামের পর্যালোচনা, প্রতিযোগীদের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি থাকে।
এই ধরনের বিশ্লেষণে এমন বিভিন্ন ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনার পর্যালোচনা করা প্রয়োজন হতে পারে। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে ব্র্যান্ডের মূল্য, নির্দিষ্ট সময়ের আর্থিক কার্যকারিতা, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপকদের নেওয়া সিদ্ধান্ত ইত্যাদি।
দুটি পদ্ধতি আলাদা। তবে পূর্ণাঙ্গ ও গভীর বিশ্লেষণ করার সময় দুটিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মৌলিক বিশ্লেষণের পদ্ধতি বেছে নিতে ভুলবেন না। কেউ কেউ মূলত সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনা করে টপ-ডাউন পদ্ধতি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন, আবার অন্যরা বটম-আপ পদ্ধতি বেছে নেন। অর্থাৎ, প্রথমে কোম্পানির তথ্য বিশ্লেষণ করে এরপর সামষ্টিক অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে এগিয়ে যান।
এই দুই ধরনের বিশ্লেষণের কথা শুনে বেশিরভাগ নতুন ট্রেডারই বিভ্রান্ত হন। তাদের অনেকেই বুঝতে পারেন না, এই দুই ধরনের বিশ্লেষণের পার্থক্য কী। আবার কেউ কেউ এগুলোকে একই মনে করেন এবং একটির বদলে অন্যটি ব্যবহার করেন—এটি বড় ধরনের ভুল।
মৌলিক বিশ্লেষণ কোম্পানির নগদ প্রবাহ গভীরভাবে বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে করা হয়। এর মাধ্যমে অর্থনীতি ও শিল্পখাতের সম্ভাবনা বিবেচনা করে কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা বোঝা যায়। ফলে, কোনো শেয়ারের সম্ভাব্য মূল্যায়ন করার জন্য একজন বিনিয়োগকারীর কাছে যথেষ্ট তথ্য থাকে।
টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস বাজারের অভ্যন্তরীণ তথ্যের ওপর নির্ভর করে। এই তথ্যের সাহায্যে মূলত কোনো অ্যাসেটের ট্রেডিং ভলিউম ও দাম বিশ্লেষণ করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, অদূর ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি হতে পারে বা নাও পারে—এমন নির্দিষ্ট প্যাটার্ন ও মুভমেন্ট শনাক্ত করা। এ কারণেই টেকনিক্যাল ট্রেডাররা লাভের সুযোগ পান।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।