“বুল” হওয়ার অর্থ হলো মূলত টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস এবং বিভিন্ন চার্ট প্যাটার্নের ওপর নির্ভর করা। এগুলো মার্কেটকে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে এবং পরিস্থিতিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে সাহায্য করে। কিছু প্যাটার্ন দিয়ে অ্যাসেটের প্রকৃত দাম বা সম্ভাব্য ট্রেন্ড পরিবর্তন শনাক্ত করা যায়, আবার অন্যগুলো ক্রেতার জন্য সেরা এন্ট্রি পজিশন খুঁজে পেতে সাহায্য করে। ট্রিপল বটম প্যাটার্নের প্রয়োজন ঠিক এ কারণেই।

বটম প্যাটার্নে একটি চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়, কীভাবে বুলরা (ক্রেতারা) বেয়ারদের (বিক্রেতাদের) কাছ থেকে দামের ওঠানামার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। সাধারণত এতে সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্সের মধ্যে তিনটি সমান নিচের দিকের বাউন্স তৈরি হয়। এর ফলে মার্কেটে প্রবেশের সেরা পয়েন্ট শনাক্ত করা এবং শক্তিশালী বুলিশ পজিশন তৈরি করার সুযোগ থাকে।
কোনো নির্দিষ্ট প্যাটার্ন ব্যবহার করার আগে, এটি আসলে কী বোঝাতে চাইছে তা আপনাকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে। তা না হলে আপনি প্যাটার্নটি পড়তে পারবেন না। সাধারণত, দীর্ঘস্থায়ী ডাউনট্রেন্ডে বেয়াররা মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ট্রিপল বটমের মূল ধারণা হলো সেই ডাউনট্রেন্ড অনুসরণ করা এবং বুলদের দামের ওঠানামার নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়া।
আগেই বলা হয়েছে, এই প্যাটার্নে তিনটি প্রধান বটম তৈরি হয়, যেগুলোকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়:



ট্রিপল বটম প্যাটার্ন বোঝা বেশ সহজ। তাই নতুন ট্রেডারদের জন্য এটি ভালো একটি বিকল্প হতে পারে। এই প্যাটার্ন শনাক্ত করার কয়েকটি প্রাথমিক নিয়ম শিখলেই হবে। নিয়মগুলো হলো:
এবার দেখা যাক, ট্রিপল বটম প্যাটার্নে কীভাবে ট্রেড করবেন। প্রথমে প্রাইস টার্গেট হিসাব করতে হবে। সাধারণত, ব্রেকআউট পয়েন্ট এবং বটমগুলোর মধ্যকার দূরত্বই হলো প্রাইস টার্গেট।
উদাহরণ: ধরা যাক, প্রাইস বটম $10-এ এবং ব্রেকআউট পয়েন্ট $12-এ। এ ক্ষেত্রে আপনার প্রাইস টার্গেট হবে $14 (12 - 10 = 2 + 12 = 14)। ট্রিপল বটম ব্যবহার করার সময় ঝুঁকি সামলাতে, প্যাটার্ন বা ব্রেকআউট পয়েন্টের নিচে স্টপ লস সেট করা ভালো।
মনে রাখবেন, শুধু ট্রিপল বটম প্যাটার্নের ওপর নির্ভর করা খুব একটা ভালো ধারণা নয়। প্যাটার্ন থেকে পাওয়া সিগন্যাল নিশ্চিত করতে আপনার অন্য ইন্ডিকেটরও দরকার হবে। কিছু ট্রেডার RSI এবং অন্যান্য টুলের সঙ্গে এটি ব্যবহার করেন। এসব টুল দিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্যাটার্নটি সত্যিই ট্রিপল বটম, বেয়ারিশ ট্রেডারদের ব্যবহার করা অন্য কোনো প্যাটার্ন (যেমন, ডিসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেল) নয়।
প্যাটার্নের নাম থেকেই বোঝা যায়, ট্রিপল টপ হলো ট্রিপল বটমের বিপরীত। আজ যে প্যাটার্নটি নিয়ে আলোচনা করছি, সেটির বিপরীতে ট্রিপল টপ মূলত বেয়ারিশ ট্রেডিং কৌশলের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই প্যাটার্নে দেখা যায়, বুল (ক্রেতারা) তাদের শক্তি হারাচ্ছে। দাম অন্তত তিনবার রেজিস্ট্যান্স লেভেল ভেদ করলে এটি তৈরি হয়।
যেকোনো চার্ট প্যাটার্ন ব্যবহার করার সময় ট্রেডারদের প্রায়ই সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করতে হয়। অন্যদিকে, ট্রিপল বটম সহজে শনাক্ত ও নিশ্চিত করা যায় বলে প্রমাণিত হয়েছে, বিশেষ করে অন্য টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরের সঙ্গে ব্যবহার করলে।
অন্যদিকে, লাভের ক্ষেত্রে এই প্যাটার্নের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো, স্টপ লস ব্রেকআউট পয়েন্টের ঠিক নিচে রাখা হয়। আপনি লাভ বাড়াতে চাইলে প্যাটার্নের ভেতরে ট্রেইলিং স্টপ লস সেট করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে এই কৌশলে লোকসান আরও বাড়তে পারে।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।