
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির soft landing নিয়ে সংশয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাজারের মনোভাব খারাপ হচ্ছে। আজ প্রকাশিত হতে যাওয়া জুলাই মাসের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্যের আগে সতর্ক মনোভাবও ঝুঁকির প্রবণতায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। উল্লেখ্য, ঝুঁকি এড়ানোর মনোভাবের কারণে US Dollar Index (DXY) দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং টানা দুই দিনের পতন থেমেছে। তবে USD-এর পুনরুদ্ধারে বাজারের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র, কারণ US Federal Reserve-এর (Fed) সুদের হার কমানোর বিষয়ে উদ্বেগ ক্রমশ গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।
এসব বাজারচালকের প্রভাবে DXY সপ্তাহের শেষে নিরপেক্ষ অবস্থানে বন্ধ হতে পারে। তবে EURUSD, GBPUSD, AUDUSD এবং USDCAD-এর সপ্তাহজুড়ে বড় দরপতনের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, NZDUSD, USDCHF, USDJPY, অপরিশোধিত তেল এবং স্বর্ণ এক সপ্তাহ ধরে বেশ ইতিবাচক অবস্থানে ছিল।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং ফেডের নীতিতে ডোভিশ অবস্থানের পরও শুধু কয়েকটি প্রধান মুদ্রাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ইকুইটি সূচক ও ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারেনি। এদিকে Dow Jones Industrial Average Index (DJI30) গত 5 সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সাপ্তাহিক লোকসানের মুখে পড়তে পারে, আর Nasdaq 100 টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো চাপের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, ETF থেকে বড় অঙ্কের অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং বড় হোয়েলদের বিক্রির কারণে BTCUSD ও ETHUSD-ও নিচের স্তরে রয়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলারের দর এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত ইঙ্গিত এবং PMI-এর নিম্নমুখী ফলাফল দেশটির অর্থনীতির soft landing নিয়ে উদ্বেগ আবার বাড়িয়েছে। তবে এর ফলে বাজারে ঝুঁকি এড়ানোর মনোভাব তৈরি হয়েছে এবং মার্কিন ডলার, জাপানি ইয়েন (JPY), সুইস ফ্রাঁ (CHF) ও সোনার মতো নিরাপদ সম্পদের চাহিদা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ হতাশাজনক ডেটার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগও বাজারের মনোভাবকে চাপে ফেলেছে এবং তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পক্ষে কাজ করেছে।
প্রধান ভূরাজনৈতিক উদ্বেগগুলোর মধ্যে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহর ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। একই সঙ্গে, মেক্সিকো উপসাগরে বড় বড় ঝড় জমা হওয়ার খবরও আলোচনায় এসেছে।
এর ফলে, ক্রুড অয়েল মার্কিন ডলারের সংশোধনমূলক উত্থান এবং চীনের সমস্যাগুলো উপেক্ষা করে টানা চার সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির পথে রয়েছে। কালো সোনার এই উত্থানের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং সরবরাহ কমানোর বিষয়ে OPEC-এর সিদ্ধান্তহীনতা থাকতে পারে। এদিকে, এপ্রিলের শুরুর পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির পথে রয়েছে গোল্ড। পাশাপাশি, USDCHF টানা পঞ্চম সপ্তাহে দরপতনের মধ্যে ছয় মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে। USDJPY-ও মার্চের শুরুর পর সর্বনিম্ন স্তরে চাপের মুখে রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা ও দুর্বল মার্কিন ডলারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক রূপান্তর নিয়ে জাপানি নীতিনির্ধারকদের আশাবাদ।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) কর্মকর্তাদের হতাশাজনক মন্তব্য এবং ইউরোজোনের মিশ্র তথ্য EURUSD-এর দামে নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করছে। একইভাবে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (BoE) সুদের হার কমানো এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি GBPUSD-কে বিয়ারিশ ট্রেডারদের নজরে রেখেছে। উল্লেখ্য, কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য ক্রুড অয়েলের দাম চাঙা থাকা সত্ত্বেও USDCAD সেই দামকে সমর্থন করতে পারছে না। এর পেছনে রয়েছে ব্যাংক অব কানাডার (BoC) বিষয়ে ডোভিশ মনোভাব। অন্যদিকে, রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ডের (RBNZ) সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যেতে পারে—বাজারের এমন প্রত্যাশা থেকে NZDUSD সুবিধা পাচ্ছে। এদিকে, চীনের সমস্যা, দেশের ভেতরের বেশিরভাগ হতাশাজনক তথ্য এবং ঝুঁকি এড়ানোর মনোভাবের চাপ AUDUSD-কে বহন করতে হচ্ছে।
সামনে, জুলাই মাসের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের তথ্যের দিকে সবার নজর থাকবে, বিশেষ করে শিরোনাম Nonfarm Payrolls (NFP) পরিসংখ্যানের দিকে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ 2024 সালে ফেডের সুদের হার 3 বার কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে; আগে 2 বার কমানোর প্রত্যাশা ছিল। তাই NFP এবং/অথবা মজুরি বৃদ্ধির তথ্য দুর্বল এলে মার্কিন ডলারের দরপতনের পক্ষে থাকা ট্রেডারদের আরও লাভের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। বাজারের সম্মিলিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, শিরোনাম NFP 206K থেকে কমে 175K হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বেকারত্বের হার 4.1%-এ অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় (Average Hourly Earnings) বছরের তুলনায় (YoY) 3.9% থেকে কমে 3.7% হতে পারে। তবে মাসের তুলনায় (MoM) এই পরিসংখ্যান 0.3%-এ অপরিবর্তিত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি, জুলাই মাসের সুইস ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI)—যা সুইজারল্যান্ডের মূল্যস্ফীতির প্রধান সূচক হিসেবেও পরিচিত—মোমেন্টাম ট্রেডারদের নজর কাড়বে। বিশেষ করে যারা সুইস ফ্রাঁ (CHF) পেয়ারে ট্রেড করেন। তবে, বার্ষিক (YoY) CPI 1.3%-এ অপরিবর্তিত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মাসিক (MoM) হার আগের 0.0% থেকে কমে -0.2% হতে পারে। এটি নিশ্চিত হলে, ছয় মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকা USDCHF-এ বিক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!