লগ আউট
Are you sure you want to exist?
MTrading Team • আজ

US Dollar-এর দরপতল এবং BoE-এর কড়া অবস্থানের ইঙ্গিতের মধ্যে সাপ্তাহিক লাভের পথে GBPUSD

US Dollar-এর দরপতল এবং BoE-এর কড়া অবস্থানের ইঙ্গিতের মধ্যে সাপ্তাহিক লাভের পথে GBPUSD

বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে বাজারে সতর্ক আশাবাদ দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি তুলনামূলক কম হতে পারে—এর প্রধান কারণ, বিশ্বনেতারা ইসরায়েলকে সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গাজায় পরিস্থিতির উন্নতি এবং আরও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আশাও ব্যবসায়ীদের ইতিবাচক থাকতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে, অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকায় এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন প্রভাবক না থাকায় এই মনোভাব বজায় রয়েছে।

ফলে, আগের দিন বছরের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরও US Dollar Index (DXY) চাপে রয়েছে। এর ফলে নিজ নিজ বাজারে বড় কোনো ইতিবাচক খবর না থাকলেও EURUSD ও GBPUSD নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে। এদিকে, বুধবার 1990 সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পর USDJPY-ও সতর্ক অবস্থানে ছিল। অন্যদিকে, US Dollar দুর্বল হওয়া এবং পণ্যের দাম বাড়ায় AUDUSD ও NZDUSD উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

আগের দিনের ক্ষতি পুষিয়ে Gold-এর দাম বাড়ছে, আর জানুয়ারির পর সবচেয়ে বড় পতনের ধাক্কা সামলাচ্ছে ক্রুড অয়েল।

তবে উল্লেখ্য, মার্কিন ডলারের দরপতনেও BTCUSD ও ETHUSD ঊর্ধ্বমুখী হতে পারেনি এবং চাপের মধ্যে রয়েছে। সতর্ক বাজার পরিস্থিতিতে ক্রিপ্টো ট্রেডাররা বিটকয়েনের হালভিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:

  • ব্রেন্ট তেলদুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি ওঠানামা করছে; সর্বশেষে প্রায় $87.60-এ দিকহীন রয়েছে।
  • সোনার দাম আগের দিনের লোকসান পুষিয়ে নিয়েছে। সংবাদ লেখার সময় দিনের মধ্যে 0.80% বেড়ে দাম $2,380-এ পৌঁছেছে।
  • USD সূচক লেখার সময় অর্ধ শতাংশেরও বেশি কমে 105.75-এ নেমেছে।
  • ওয়াল স্ট্রিট সামান্য ক্ষতি নিয়ে বন্ধ হয়েছে, তবে এশিয়া-প্যাসিফিক শেয়ারগুলো সাম্প্রতিক সময়ে সাপ্তাহিক ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া, দিনের শুরুর ট্রেডিং ঘণ্টায় ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের শেয়ারের দিকনির্দেশ স্পষ্ট নয়।
  • BTCUSD এবং ETHUSD—দুটিই সামান্য কমে সর্বশেষে যথাক্রমে প্রায় $61,000 ও $2,960-এ রয়েছে।
ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

অর্থনৈতিক সূচির চাপ কম থাকায় ইয়িল্ডের পতনের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন ডলারেরও দরপতন…

ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) কর্মকর্তাদের মিশ্র মন্তব্য এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক খবর না থাকায় মার্কিন ডলারের সাপ্তাহিক লাভ কিছুটা কমেছে। এদিকে, ইসরায়েল গাজা নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ্রহ দেখিয়েছে, তবে ইরানে হামলার প্রস্তুতিও দেখিয়েছে। তবে, তেহরানের মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমর্থনের অভাব জেরুজালেমকে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির করে তোলা থেকে বিরত রাখতে পারে।

বুধবার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সদস্য দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের কাউন্সিল জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও বিধিনিষেধমূলক পদক্ষেপ নেবে।

ইসরায়েল-ইরান সংক্রান্ত খবরের পাশাপাশি, Group of Seven Nations (G7)-এর বৈঠকের আপডেটও আগের ঝুঁকি এড়ানোর মনোভাবকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং US Dollar-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যদিও এতে বড় কোনো প্রণোদনা ছিল না। সর্বশেষ আপডেটে G7 জানিয়েছে, মূল্য স্থিতিশীলতা অর্জনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি তারা বলেছে, “বিশ্ব অর্থনীতি একাধিক ধাক্কা সামলে স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে, তবে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ঐতিহাসিক গড়ের নিচে রয়েছে।”

তবে উল্লেখ্য, International Monetary Fund (IMF) US ও চীনের ক্রমবর্ধমান ঋণকে সরকারি অর্থব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এ ছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চীনা স্টিলের ওপর শুল্ক তিন গুণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, যা বাজারের সতর্ক আশাবাদকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং মার্কিন ডলারের দরপতনে বাধা দিয়েছে। এর ফলে ইকুইটির ওপরও চাপ পড়েছে।

ফেডের কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রসঙ্গে, ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট লরেটা মেস্টার বলেন, “মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এর গতিপথ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে হবে।” এদিকে, ফেডের গভর্নর মিশেল বোম্যান উল্লেখ করেন যে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর অগ্রগতি ধীর হয়েছে, এমনকি হয়তো থেমেও গেছে। এছাড়া, ফেডের বেইজ বুক বলেছে, “যোগাযোগ করা ব্যক্তিরা আশা করছেন, মুদ্রাস্ফীতি ধীর গতিতে স্থিতিশীল থাকবে। তবে কয়েকটি জেলার কিছু নির্মাতা মনে করছেন, নিকট ভবিষ্যতে ইনপুট ও আউটপুট—উভয় ধরনের দামের ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকি থাকতে পারে।”

এই পরিস্থিতিতে, US Dollar Index (DXY) পাঁচ দিনের টানা বৃদ্ধির ধারা ভেঙে বার্ষিক সর্বোচ্চ স্তর থেকে নেমেছে। এর ফলে প্রধান মুদ্রা ও পণ্যের সাপ্তাহিক লোকসান কিছুটা কমেছে। তবে, সোনার দাম এখনো অনেকটা স্থির; রেকর্ড সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি সামান্য চাহিদা রয়েছে। অন্যদিকে, অপরিশোধিত তেলের ট্রেডাররা ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। জানুয়ারির শুরুর পর কালো সোনার সবচেয়ে বড় দৈনিক দরপতনের পেছনে মূলত অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমে আসা দায়ী।

US Dollar-এর দরপতনের পাশাপাশি, European Central Bank (ECB)-এর কর্মকর্তাদের hawkish মন্তব্য EURUSD-কে সাড়ে 5 মাসের সর্বনিম্ন থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এক দিনে সবচেয়ে বড় উত্থানও হয়েছে। তবে, ECB প্রেসিডেন্ট Christine Lagarde বলেছেন, “বিনিময় হার যে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তা স্পষ্ট।” তাঁর মন্তব্য আগের দিনের বিবৃতির বিপরীত, যেখানে শিগগিরই সুদের হার কমানোর প্রস্তুতির ইঙ্গিত ছিল। Lagarde ছাড়াও, Bundesbank প্রধান Joachim Nagel, পর্তুগালের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট Mario Centeno এবং Governing Council-এর সদস্য Isabelle Schnabel-ও hawkish অবস্থান নিয়েছেন, যা EURUSD-এর বুলদের সহায়তা করেছে।

অন্যদিকে, Bank of England (BoE)-এর গভর্নর Andrew Bailey বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব আশঙ্কার চেয়ে কম। নীতিনির্ধারক আরও বলেন, “মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারিতে আমরা যে অবস্থানে থাকার কথা ভেবেছিলাম, মোটামুটি সেই পথেই আছি।” এ পরিস্থিতিতে, GBPUSD-এর দর বছরের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং প্রতিবেদন লেখার সময় টানা দ্বিতীয় দিনে বেড়েছে।

মার্কিন ডলারের দরপতন ও বন্ড ইল্ড কমার পাশাপাশি জাপানকে ঘিরে মিশ্র খবরের মধ্যে USDJPY-ও আগের দিনের বহু বছরের সর্বোচ্চ স্তর থেকে পতন অব্যাহত রেখেছে। এদিকে, Bank of Japan (BoJ)-এর বোর্ড সদস্য Asahi Noguchi দিনের শুরুতে দেওয়া মন্তব্যে অত্যন্ত শিথিল মুদ্রানীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, জাপানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-অর্থমন্ত্রী Masata Kanda অতিরিক্ত অস্থিরতার মধ্যে ইয়েনকে সমর্থন দিতে বাজারে হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মিশ্র কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্য সত্ত্বেও, G10 মুদ্রাগুলোর মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD)। এর পেছনে ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের (NAB) ব্যবসায়িক আস্থার ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ভূমিকা রাখতে পারে—সূচকটি -6 থেকে বেড়ে -2 হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার (RBA) বুলেটিনের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদের ইঙ্গিত দেওয়া খবরও অস্ট্রেলিয়ান ডলারের পেয়ারটির সাম্প্রতিক পুনরুদ্ধারকে এগিয়ে নিতে পারে।

  • জোরালো ক্রয়: USDCAD, USDJPY, মার্কিন ডলার
  • জোরালো বিক্রি: ETHUSD, GBPUSD
  • কিনুন: BTCUSD, ETHUSD, Nasdaq, Gold
  • বিক্রি করুন: DAX, FTSE 100, BTCUSD, AUDUSD, EURUSD

মাঝারি গুরুত্বের ডেটা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের বক্তব্যে ট্রেডারদের নজর…

সামনে, যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক Jobless Claims এবং মাসিক Philadelphia Fed Manufacturing Index-এর ফলাফলের পাশাপাশি ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের বক্তব্য বাজারের অংশগ্রহণকারীদের নজর কাড়বে। উল্লেখ্য, বড় কোনো তথ্য বা ঘটনা না থাকলে বাজারের ওঠানামা সীমিত থাকতে পারে। তবে মে মাসের FOMC-র আগে দুই সপ্তাহের নীরবতার সময় শুরু হওয়ার আগে Fed নীতিনির্ধারকদের মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাই, উল্লেখিত কারণগুলো থেকে বড় কোনো চমক না এলে—যার সম্ভাবনা কম—যুক্তরাষ্ট্রের ডলার ও পণ্যমূল্যের সাম্প্রতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!