
শুরুর দিকে কিছুটা দুর্বলতার পরও বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, যদিও দীর্ঘ ছুটির পর US বাজার আবার খুলেছে। ঝুঁকির চিত্রটি মিশ্র বলে মনে হচ্ছে: ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড আগের দিনের পুনরুদ্ধার ধরে রেখেছে, কিন্তু US স্টক ফিউচার এক মাসের সর্বোচ্চ স্তর থেকে নেমে এসেছে।
মন্দা এবং ফেডকে ঘিরে মিশ্র উদ্বেগের মধ্যে US Dollar সোমবার সাত মাসের সর্বনিম্ন থেকে হওয়া সংশোধনমূলক উত্থান ধরে রাখতে পারেনি। তবে, চীনের ইতিবাচক তথ্য নিয়ে ট্রেডারদের সংশয়ের কারণে দুর্বল USD-কে স্বাগত জানাতে অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ড ডলার এবং কমোডিটিগুলোকে হিমশিম খেতে দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে Claimant Count Change কমেছে এবং বেকারত্বের হার অপরিবর্তিত থাকলেও GBPUSD সামান্য বেড়েছে। অন্যদিকে, বুধবারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Bank of Japan (BoJ) মুদ্রানীতি বৈঠকের আগে USDJPY সাম্প্রতিক দরপতনের কিছুটা পুষিয়ে নিচ্ছে।
সোনার দাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে। অন্যদিকে, সামান্য বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ব্রেন্ট তেলের দাম দুই দিনের নিম্নমুখী প্রবণতা ভেঙেছে।
অপশনস মার্কেটে দামের পক্ষে ইতিবাচক সংকেত দেখা গেলেও ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো কয়েক মাসের সর্বোচ্চ স্তরের কাছে সাম্প্রতিক লাভ ধরে রেখে কনসোলিডেশনে রয়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ছুটির পর বাজার পুরোপুরি চালু হলেও মঙ্গলবার ট্রেডিংয়ে মিশ্র প্রবণতা রয়েছে। এর কারণ হতে পারে সম্প্রতি প্রকাশিত মিশ্র মার্কিন তথ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতির মন্থরতা নিয়ে উদ্বেগ। ইতিবাচক GDP, শিল্প উৎপাদন ও খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশের পরও চীন বাজারের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় ট্রেডাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) শুরু হওয়ায় নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে হতাশার চিত্র দেখা গেছে। একটি জরিপে কূটনীতিকদের মধ্যে আসন্ন মন্দা নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত মিলেছে। ECB-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ Philip Lane-এর মন্তব্য এবং পশ্চিমা দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির সূচকেও একই চিত্র দেখা গেছে।
ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের Claimant Count Change কমেছে, তবে বেকারত্বের হার অপরিবর্তিত ছিল। এতে BoE দ্রুত সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগ বেড়েছে। এর আগে সোমবারের সাক্ষ্যে গভর্নর Andrew Bailey মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের প্রধান কারণ হিসেবে শ্রমিকদের ধর্মঘটের কথা উল্লেখ করেন।
লক্ষ্য করার বিষয়, ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড ঘুরে দাঁড়ানোয় আসন্ন মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা সত্ত্বেও ট্রেডাররা সোনার দামের সাম্প্রতিক বৃদ্ধির স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দিহান। ফলে সোনার দাম সাম্প্রতিক কিছু লাভ হারিয়েছে। অন্যদিকে, চীন থেকে জ্বালানির চাহিদা বাড়ার আশায় গত দুই দিনের দরপতনের পর ব্রেন্ট তেলের দাম ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বিটকয়েনের অপশন মার্কেটের ডেটা ট্রেডারদের মধ্যে ঊর্ধ্বমুখী মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আরও NFT-সংশ্লিষ্ট প্রবৃদ্ধির আশায় ETHUSD-ও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মাঝারি গুরুত্বের ডেটা এবং কানাডার মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান ইন্ট্রাডে ট্রেডারদের আগ্রহী করে তুলতে পারে। তবে, বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ BoJ মুদ্রানীতি প্রতিবেদন, যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশের আগে সতর্ক মনোভাব দিনের বাকি সময়ে বাজারের ওঠানামা সীমিত করতে পারে। তা সত্ত্বেও, ওয়াল স্ট্রিটের গতিবিধির দিকে নজর রাখা উচিত, কারণ ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড তলানি ছুঁয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!