
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক সূচকের ক্যালেন্ডার হালকা এবং জাপানে ছুটি থাকায় সোমবার সকালে ট্রেডারদের কার্যক্রম ধীর মনে হচ্ছে। গত সপ্তাহে বড় কোনো হালনাগাদ না আসায় ট্রেডাররা কিছুটা উদ্বিগ্ন। পাশাপাশি, প্রধান অর্থনীতিগুলো থেকে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তারা সতর্ক রয়েছেন।
বাজারে গতি কম এবং জাপানে ছুটি থাকা সত্ত্বেও G10 মুদ্রাগুলোর মধ্যে USDJPY এগিয়ে রয়েছে, কারণ ট্রেডাররা আশা করছেন Bank of Japan আর সুদের হার বাড়াবে না। এরপর রয়েছে USDCHF, যার দামে সামান্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
চার দিন ধরে পতনের পর EURUSD-এর দরপতন থেমেছে, যদিও এতে এখনও জোরালো ঊর্ধ্বমুখী গতি দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, GBPUSD টানা তৃতীয় দিনের মতো বাড়ছে। AUDUSD ও NZDUSD—দুটিতেই সামান্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ছয় দিন ধরে পতনের পর USDCAD-এর দিকনির্দেশনা স্পষ্ট নয়, বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে। মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দাম বেড়েছে। সোনার দামও টানা তৃতীয় দিনের মতো বাড়ছে।
গত সপ্তাহে কয়েক সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে সাময়িকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পর BTCUSD ও ETHUSD—দুটিই আবার চাপে পড়ে দর হারাচ্ছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



বড় কোনো ঘটনা বা অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ ছাড়াই শান্ত একটি সপ্তাহের পর, ফেড গভর্নর মিশেল বোম্যান শনিবার বক্তব্য দেন এবং সুদের হারের বিষয়ে ফেডের কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করেন। তিনি মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি এবং সুদের হার কমানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা তুলে ধরেন। এর বিপরীতে, বোস্টন ফেডের প্রেসিডেন্ট সুসান কলিন্স এর আগে বলেছিলেন, আসন্ন তথ্য প্রত্যাশার সঙ্গে মিললে সুদের হার কমানো উপযুক্ত হতে পারে।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যানের সাম্প্রতিক উন্নতি মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করেছে। তবে ফেডের মিশ্র বার্তায় ডলারের ওপর চাপ বজায় ছিল, যদিও সোমবার দিনের শুরুতে US Dollar Index (DXY) সামান্য বেড়েছিল।
DXY ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায়, Bank of Japan (BoJ)-এর প্রাক্তন বোর্ড সদস্য সাকুরাইয়ের মন্তব্য চার সপ্তাহের পতনের ধারা থামার পর USDJPY-কে শক্তিশালী থাকতে সাহায্য করেছে।
গত সপ্তাহের EU-এর তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হওয়ায় EURUSD বাড়ছে, আর GBPUSD আগের লাভ ধরে রেখেছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (BoE) নীতিনির্ধারক ক্যাথরিন মান মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা জানান। বিপরীতে, যুক্তরাজ্যের এক জরিপে দুই বছরের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধির প্রত্যাশা সবচেয়ে কম দেখা গেছে। এ সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক তথ্য থেকে BoE-এর আরও সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত এবং দেশটির অর্থনীতির দুর্বলতার আভাস মিললে GBPUSD প্রভাবিত হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি গভর্নর অ্যান্ড্রু হাউজার অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও সঞ্চয়ের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। হাউজারের মন্তব্য এবং চীন নিয়ে উদ্বেগের কারণে চাপ থাকলেও, চার সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সাপ্তাহিক বৃদ্ধির পর AUDUSD সামান্য বেড়েছে। একইভাবে, এ সপ্তাহে রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ডের (RBNZ) সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে NZDUSD স্থিতিশীল রয়েছে, যদিও বিশ্লেষকদের মতামত ভিন্ন।
সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র একটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন মোতায়েন করেছে এবং আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার গ্রুপের আগমনের সময় এগিয়ে এনেছে। এসব ঘটনা এবং হারিকেনের আশঙ্কা তেলের দামকে সমর্থন জুগিয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে চীনে সৌদি তেল রপ্তানি কমার খবর এবং আসন্ন OPEC প্রতিবেদন তেলের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বাজারের অনিশ্চয়তা, ডেটা প্রকাশের আগে উদ্বেগ এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা থেকেও সোনার দাম সুবিধা পাচ্ছে। ভবিষ্যতে বাজার কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণে এ সপ্তাহে প্রকাশিতব্য US ভোক্তা-সংক্রান্ত ডেটা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বাজার খোলার আগে কমসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের কারণে বাজারে লেনদেন সীমিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নজরে রাখার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতের ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) ও শিল্প উৎপাদনের প্রতিবেদন, OPEC-এর মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক বাজেট বিবৃতি। মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকি-সংক্রান্ত খবর এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মন্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা চাহিদার প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। এসব কারণে বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে, বিশেষ করে ফেডের নমনীয় অবস্থান নিশ্চিত হলে, যা মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!