
শুক্রবার বাজারের গতি মন্থর থাকায় বৈশ্বিক বাজারে সাপ্তাহিক ওঠানামা কমেছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক তথ্যের মিশ্র বার্তা ও হালকা অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডার ট্রেডারদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড কমার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মার্কিন ডলার চললেও, সপ্তাহজুড়ে দরবৃদ্ধির পথে রয়েছে। ফলে, তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সাপ্তাহিক পতনের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সোনার দাম দিনে বেড়েছে। এদিকে, অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামাও সীমিত রয়েছে—দিনে দরবৃদ্ধি হলেও সপ্তাহজুড়ে দরপতনের পথে।
নিজস্ব বাজারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য USD দুর্বলতাকে স্বাগত জানানোর জন্য USDJPY ও GBPUSD-কে আরও কারণ জুগিয়েছে। তবে, ব্যাংক অব কানাডার (BOC) নরম অবস্থানের কারণে USDCAD-এর দরপতন অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, নিজস্ব বাজারে হতাশাজনক পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ETHUSD ও BTCUSD-ও মার্কিন ডলারের দুর্বলতাকে স্বাগত জানিয়েছে।



প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:
এটি আশাবাদ নয়!
শুক্রবারের শুরুতে মার্কিন ডলারের দুর্বলতা ও মার্কিন ট্রেজারি ইল্ডের পতন ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাকে সমর্থন করলেও, ইল্ড কার্ভ এবং ফেডের সাম্প্রতিক কড়া অবস্থানের ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য বাজারের অংশগ্রহণকারীদের জন্য সতর্কসংকেত দিচ্ছে। এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় ও PPI-এর শক্তিশালী তথ্যও ফেডের নীতিগত প্রত্যাশার সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বাজারের মনোভাবকে চ্যালেঞ্জ করছে।
তবে, জাপানে মূল্যস্ফীতির শক্তিশালী তথ্য এবং যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটির সুদৃঢ় রাজস্বনীতি ইয়েন ও পাউন্ডকে সহায়তা করছে বলে মনে হচ্ছে। উল্লেখ্য, RBNZ-এর আরও বড় সুদবৃদ্ধির প্রত্যাশায় ট্রেডাররা থাকায় NZDUSD টানা পাঁচ সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পথে রয়েছে।
চীন 2023 সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রবৃদ্ধি জোরালোভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করায়, সোনার দাম সাম্প্রতিক লোকসান পুষিয়ে নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় একই পরিস্থিতি তেল ক্রেতাদেরও সুবিধা দিয়েছে।
অন্যদিকে, FTX কেলেঙ্কারিকে ঘিরে ক্রিপ্টো বাজারের হতাশা এবং বাজার থেকে অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায়, সাম্প্রতিক উত্থান সত্ত্বেও BTCUSD ও ETHUSD-এ দরপতনের পক্ষে থাকা ট্রেডাররা আশাবাদী রয়েছেন।
বিশেষ উল্লেখযোগ্য কিছু নেই
ECB প্রেসিডেন্ট লাগার্দের বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মাঝারি গুরুত্বের পরিসংখ্যান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো বাজার-প্রভাবক না থাকায়, ট্রেডাররা সপ্তাহজুড়ে হওয়া ওঠানামার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা মার্কিন ডলারের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পারে। উল্লেখ্য, চীন ও রাশিয়াকে ঘিরে খবর এবং শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে বাজারের অংশগ্রহণকারীদের মনোযোগ ধরে রাখতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!