
মঙ্গলবারের শুরুর দিকে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এর প্রধান কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা ঋণ পরিশোধে খেলাপি হওয়া এড়াতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা। তবে ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে বাজি মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী রেখেছে। এর ফলে প্রধান মুদ্রা, কমোডিটি এবং অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলোর ওপর নিম্নমুখী চাপ পড়ছে।
চীনের অর্থনীতি নিয়ে হতাশাজনক প্রত্যাশার পাশাপাশি চীন-যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বাজার RBNZ-এর সুদের হার বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে NZDUSD সবচেয়ে বেশি কমেছে।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে চিহ্নিত মাসিক সর্বনিম্নের দিকে সোনার দাম নেমেছে। সপ্তাহের শুরুতে তেলের দামে যে পুনরুদ্ধার দেখা গিয়েছিল, সেটিও উল্টে গেছে। লক্ষণীয় যে, বন্ডের ইল্ড দুর্বল থাকায় USDJPY-এর বুলিশ ট্রেডাররা উৎসাহ পাচ্ছেন। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মিশ্র PMI এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলার AUDUSD-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তা সত্ত্বেও, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টক ফিউচার সামান্য ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে, Bitcoin ও Altcoins-এর লেনদেনের পরিমাণ কমলেও ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর দর কিছুটা শক্তিশালী রয়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



দ্বিতীয়বারের চেষ্টাতেও ঋণসীমা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলেও, ‘বিপর্যয়কর’ ঋণখেলাপি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণসীমা বাড়ানোর সমঝোতা প্রতিনিধি পরিষদে পাস করানোর ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Joe Biden এবং প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার Kevin McCarthy আশাবাদী রয়েছেন।
অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ এবং IMF-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী বিশ্ববাজারের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটাতে চীনের সক্ষমতা নিয়ে সংশয় ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাকে দুর্বল করছে। মার্কিন ডলারের শক্তির পাশাপাশি, এসব কারণ অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ড ডলারের ওপর আরও নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে ফেডের নীতিনির্ধারকদের কড়া মন্তব্যের মধ্যে মার্কিন ডলার এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং মাসিক সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
লেনদেনের পরিমাণ কম থাকলেও ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোকে শক্তিশালী মার্কিন ডলারের প্রভাব উপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে। সম্ভবত তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঋণসীমা চুক্তি পাস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
সপ্তাহের শুরুটা তুলনামূলক শান্ত থাকার পর, একাধিক PMI প্রকাশের সূচি থাকায় বাজারে অস্থির একটি দিন দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে মে মাসের অস্ট্রেলিয়ার কার্যকলাপ-সংক্রান্ত তথ্য ইতিমধ্যেই মিশ্র ফল দিয়েছে এবং AUDUSD-র ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের PMI প্রকাশের আগে যুক্তরাজ্য ও ইউরোজোনের PMI আসবে। কার্যকলাপের পরিসংখ্যান শক্তিশালী থাকলে USD-র ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!