
FOMC-কে ঘিরে অস্থিরতা বাড়ার পর, আজকের ECB সুদহারের সিদ্ধান্ত এবং জার্মানি, ইউরোজোন ও যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ প্রান্তিকের GDP প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বাজারে তারল্য কমেছে। ফেডের মিশ্র সংকেত এবং ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
প্রত্যাশা অনুযায়ী, US Federal Reserve (Fed) সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে চেয়ারম্যান পাওয়েলের মিশ্র সংকেতে বাজারে ওঠানামা দেখা দিয়েছে। Fed চেয়ারের কড়া মন্তব্যে প্রথমে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছিল, কিন্তু পরে ব্যাখ্যা দেওয়ার পর ডলারের দর কমে যায়। তবে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা নিয়ে ঝুঁকির উদ্বেগ মার্কিন ডলারকে সমর্থন জুগিয়েছে, ফলে দিন শেষে ডলারের সামান্য বৃদ্ধি হয়েছে।
জার্মানিতে মন্দার আশঙ্কা, EU-তে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং European Central Bank (ECB)-এর নরম অবস্থানের পূর্বাভাসের কারণে EURUSD-এর ওপর চাপ রয়েছে। জার্মানির শিল্প সংগঠন মন্দার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, আর ভোক্তা আস্থা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা, রাশিয়ার সঙ্গে সমস্যা এবং বড় IT সংস্থাগুলোর চ্যালেঞ্জও ইউরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এদিকে, বাজারের প্রত্যাশা—EU-র GDP-র দুর্বল তথ্য, ECB-র আরেক দফা সুদের হার কমানো এবং ECB প্রেসিডেন্ট Lagarde-এর নরম অবস্থানের বিবৃতি।
যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক রূপান্তর নিয়ে উদ্বেগ এবং Bank of England-এর আরও সুদের হার কমানোর প্রত্যাশার মধ্যে GBPUSD আগের দরবৃদ্ধি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। US Dollar শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর Rachel Reeves এবং BoE গভর্নর Andrew Bailey-এর আশাবাদী মন্তব্যে জুটিটি বুধবার সামান্য দরবৃদ্ধি নিয়ে দিন শেষ করেছে।
G10 কারেন্সি পেয়ারগুলোর মধ্যে USDJPY-তে সবচেয়ে বড় ওঠানামা দেখা গেছে। দিনের মধ্যে দর 0.50%-এরও বেশি কমেছে, আগের দিনের পতনও অব্যাহত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) এবং ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) নীতির মধ্যে আরও বেশি পার্থক্য তৈরি হতে পারে—বাজারের এমন প্রত্যাশায় দরপতন হয়েছে। বিশেষ করে, FOMC বিবৃতির ভাষায় পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে ফেড চেয়ার পাওয়েলের ব্যাখ্যার পর USD দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওয়াশিংটনে বৈঠকের খবরও এই পেয়ারের দর কমার চাপ বাড়িয়েছে।
AUDUSD ও NZDUSD টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে, অন্যদিকে USDCAD টানা চার দিনের দরবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। চীনা নববর্ষ উপলক্ষে চীনের বাজার বন্ধ থাকা, বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ডোভিশ দৃষ্টিভঙ্গি—সবই এই দুই কারেন্সি পেয়ারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে ব্যবসায়িক আস্থা ও বাণিজ্যসংক্রান্ত মিশ্র তথ্যের মধ্যে NZDUSD কমেছে। দুর্বল RBA Bulletin এবং হতাশাজনক অস্ট্রেলীয় মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের কারণে AUDUSD চাপে রয়েছে, আর সামগ্রিক বাজারের উদ্বেগও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করছে।
এদিকে, প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাংক অব কানাডা (BoC) নীতিগত সুদের হার 0.25% কমিয়েছে। এতে USDCAD পেয়ারটি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, বিশেষ করে ফেডের কড়া অবস্থানের কারণে সুদের হার কমানোর বিরতি ঘোষণার পর। BoC গভর্নর টিফ ম্যাকলেমের নমনীয় অবস্থানের মন্তব্যও লুনি পেয়ারের এই উত্থানের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বাণিজ্য শুল্ককে কানাডিয়ান ডলারের (CAD) জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। অপরিশোধিত তেলের দাম কম থাকাও এর পেছনে ছিল। এদিকে, বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোলি ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর “সতর্ক আশাবাদী” আলোচনা নিয়ে খবর বাজারে আলোচনার জন্ম দেয়।



মার্কিন ডলারের সামান্য দরবৃদ্ধিতে স্বর্ণ ও ক্রুড অয়েলের দামে চাপ পড়েছে। মজুত বাড়তে থাকা এবং সরবরাহ আরও বাড়ার পাশাপাশি চাহিদা কমার উদ্বেগে তেলের দাম বেশি কমেছে। এদিকে, বাজারের উদ্বেগ ও চাহিদা বাড়ায় স্বর্ণের দাম তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে। এর মধ্যে আজকের মার্কিন GDP তথ্য এবং শুক্রবারের Fed-এর মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
সাপ্তাহিক সর্বনিম্ন থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পর Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর দাম বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে আরও ক্রিপ্টো-বান্ধব পদক্ষেপ নেওয়ার আশা এবং CME-এর খবর এই ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি, ফেডের কঠোর অবস্থান নিয়ে সংশয় বাড়া এবং বাজারের সতর্ক আশাবাদ—দুটিই ক্রিপ্টোকারেন্সি পেয়ার দুটির সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধিকে সমর্থন করছে।
বৃহস্পতিবার ব্যস্ত একটি দিন হতে পারে। জার্মানি, ইউরোজোন ও যুক্তরাষ্ট্রের 2024 সালের চতুর্থ প্রান্তিকের গুরুত্বপূর্ণ GDP প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ECB) 25 বেসিস পয়েন্ট (bps) সুদের হার কমাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ECB প্রেসিডেন্ট Christine Lagarde-এর সতর্ক মন্তব্যের সঙ্গে এই পদক্ষেপ EURUSD-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ইউরোজোনের দুর্বল প্রবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী তথ্য মার্কিন ডলারকে আরও সমর্থন দিতে পারে এবং ইউরোর দর কমাতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ হলে অন্যান্য মুদ্রা ও পণ্যদ্রব্যের দাম ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ফলাফল যা-ই হোক, নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা লাভবান হতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!