
বুধবার রাতে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় মার্কিন ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে এবং 2025 সালে দুবার সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। ধীর প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ বেকারত্বের মধ্যেও বৃহস্পতিবার বাজারের মনোভাব সতর্কভাবে আশাবাদী। তবে ফেড চেয়ার Powell-এর বক্তব্যেও আশাবাদের অভাব ছিল এবং তা মার্কিন ডলারের ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে পারেনি। তবু দিন শেষে ডলার বেড়েছে, ফলে টানা তিন দিনের দরপতনের ধারা থেমেছে।
Fed-এর কারণে বাজারের মনোভাব বদলানোর পাশাপাশি, আরও সুদের হার কমানোর পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাপ এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অগ্রগতিও বাজারের মনোভাবকে চাঙা করেছে। তবে Bank of England (BoE) ও Swiss National Bank (SNB)-এর আসন্ন সিদ্ধান্তের আগে সতর্কতা বাড়ছে। একই সঙ্গে চীনবিরোধী নীতির কারণে মার্কিন জাহাজগুলোর চ্যালেঞ্জ এবং PBoC-এর সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার অবস্থানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতা সত্ত্বেও, টানা তৃতীয় দিনে সোনা নতুন সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে এবং $3,058-এ তিন মাসের ট্রেন্ড লাইনের রেজিস্ট্যান্স পরীক্ষা করেছে। EURUSD-এর পতন অব্যাহত রয়েছে, আর BoE-র “Super Thursday”-এর আগে GBPUSD নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ স্তর থেকে নেমে এসেছে। জাপানের ছুটির দিনে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর USDJPY কমেছে। AUDUSD ও NZDUSD-এর পতন আরও বেড়েছে। অপরদিকে, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও চীনকে ঘিরে মিশ্র উদ্বেগের কারণে USDCAD টানা তৃতীয় দিনে বেড়েছে।
সবশেষে, ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো বড় ধরনের দরবৃদ্ধির পর কিছুটা পিছিয়েছে। অন্যদিকে, শেয়ারের দাম সামান্য বেড়েছে এবং বন্ড বাজার শান্ত রয়েছে।
US Dollar-এর ওপর Fed-এর প্রভাব এবং জার্মানিতে আশাবাদ EURUSD-এর ক্রেতাদের সমর্থন দিলেও, Eurozone-এ মূল্যস্ফীতি কম হওয়া এবং ECB কর্মকর্তাদের ডোভিশ মন্তব্য EURUSD-এর দামে চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসার পর পেয়ারটি স্থিতিশীল রয়েছে, যদিও এতে জোরালো নিম্নমুখী গতি নেই।
অন্যদিকে, জাপানের ছুটি উপেক্ষা করে USDJPY আগের দিনের পতন বাড়িয়ে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ দামের কাছ থেকে আরও নিচে নেমেছে। BoJ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পর গভর্নর কাজুও উয়েদার কড়া নীতির পক্ষে মন্তব্যের জেরে এই পতন হয়েছে। ইয়েনের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে অবস্থানও USDJPY-তে নিম্নমুখী চাপ দিচ্ছে।
দিনের শুরুতে সাড়ে 4 মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর GBPUSD সামান্য কমেছে। দুর্বল UK কর্মসংস্থান ডেটার পর ট্রেডাররা BoE-এর নীতিগত ঘোষণা অপেক্ষা করছেন। BoE-এর নরম অবস্থানে বিরতি দেওয়ার প্রত্যাশা এবং UK সরকারের পরিকল্পিত ব্যয় হ্রাসের কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পাউন্ডের পতনটি US Dollar-এর সংশোধনমূলক উত্থানের প্রতিফলন। এদিকে UK ও US-এর চলমান বাণিজ্য উত্তেজনাও GBPUSD-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ইতিবাচক UK ডেটা এবং দুর্বল USD একাধিক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি বিক্রেতাদের চ্যালেঞ্জ করলেও এই চাপ রয়েছে।
চীনের পিপলস ব্যাংকের (PBOC) টানা পঞ্চম মাসের নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্ট্রেলিয়ার দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদন AUDUSD-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে পেয়ারটি টানা তিন দিনের দরপতনের পথে রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের GDP প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলেও NZDUSD একই প্রবণতা অনুসরণ করছে। এদিকে, শক্তিশালী ক্রুড অয়েলের দাম উপেক্ষা করে USDCAD টানা তৃতীয় দিনের মতো বাড়ছে। BoC-এর ডোভিশ অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য উত্তেজনা এবং অটোয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ এখন BoC গভর্নরের বক্তব্যের আগে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।



আর্থিক বাজারের অনিশ্চয়তা, দুর্বল মার্কিন ডলার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কেনাকাটার মধ্যে স্বর্ণের দাম নতুন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ 3,058 ডলারের রেজিস্ট্যান্স পরীক্ষা করছে। তবে RSI অতিরিক্ত কেনা অবস্থায় থাকা, টেকনিক্যাল রেজিস্ট্যান্স এবং ত্রৈমাসিকের শেষের সম্ভাব্য পজিশনিংয়ের কারণে দাম 3,000 ডলারের আগের রেজিস্ট্যান্সে নেমে আসতে পারে। তা সত্ত্বেও, শিগগিরই বিক্রেতারা নিয়ন্ত্রণ নেবে—এমন সম্ভাবনা কম।
প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাপ্তাহিক মজুত বৃদ্ধির পরও ক্রুড অয়েলের দাম সম্প্রতি বেড়েছে। ট্রাম্পের ইরানকে দেওয়া হুঁশিয়ারি এবং হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা দামকে কিছুটা বাড়িয়েছে। তবে OPEC+-এর উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা এই ঊর্ধ্বগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Fed কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া এবং Bitcoin-এ বড় বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বেড়ে শক্তিশালী rally হওয়া সত্ত্বেও ক্রিপ্টো ক্রেতারা সতর্ক রয়েছেন। শিল্পখাত নিয়ে চলমান উদ্বেগ ও বাজারে কম তারল্যের মধ্যে Bitcoin (BTCUSD) এবং Ethereum (ETHUSD) আগের কিছু লাভ ধরে রাখতে পারেনি এবং সামান্য লোকসানের মুখে পড়েছে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিগত সিদ্ধান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্ব ভাতার দাবি এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যকলাপের তথ্যের অপেক্ষায় ট্রেডাররা থাকায় বাজারে সতর্কতা বজায় রয়েছে। ইউরোপ ও কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের বক্তব্যও নজরে রাখতে হবে। ফেডের কারণে তৈরি অস্থিরতার পর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক, ইউক্রেন-রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। বাজারের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করতে এসব বিষয়ও নজরে রাখা জরুরি।
BoE অর্থনৈতিক উদ্বেগের ইঙ্গিত দিলে বা ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর আভাস দিলে GBPUSD চাপে পড়তে পারে। এদিকে, অতিরিক্ত কেনার পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দাম রেজিস্ট্যান্স থেকে পিছিয়ে আসতে পারে। EURUSD, অপরিশোধিত তেল, অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ড ডলার এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির দামও দিনের হিসাবে কমার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে USDJPY-র ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!