
ফিউচারস ট্রেডিং কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে নতুনদের জন্য। এই জনপ্রিয় ইন্সট্রুমেন্ট থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে আপনাকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেডিং কৌশল গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি কৌশল পরীক্ষা করে আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতিটি নির্ধারণ করতে হবে।
লাভজনক ট্রেডিং কৌশল খুঁজে পেতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হতে পারে। তবে, আমরা পাঠকদের জন্য বিষয়টি সহজ করে দিতে চেয়েছি। এই নিবন্ধে আপনি বেছে নেওয়ার মতো সেরা ফিউচারস ট্রেডিং কৌশলগুলোর তালিকা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে কিছু প্রাথমিক কৌশল এবং আরও কিছু জটিল পদ্ধতি, যেগুলোর জন্য বাজার সম্পর্কে ভালো ধারণা ও অভিজ্ঞতা দরকার। এ ছাড়া, নতুনদের যেসব ফিউচারস ট্রেডিং কৌশল এড়িয়ে চলা উচিত, সেগুলো সম্পর্কেও জানতে পারবেন।
চলুন শুরু করা যাক!
আপনি যদি আর্থিক বাজারে যুক্ত থাকেন, তাহলে ফিউচারস কী, তা সম্ভবত আপনার জানা। সংক্ষেপে মনে করিয়ে দিই: ফিউচারস হলো দুই পক্ষের মধ্যে একটি বাধ্যতামূলক চুক্তি, যেখানে উভয় পক্ষকেই একটি নির্দিষ্ট অ্যাসেটের ভিত্তিতে লেনদেন (কেনা বা বেচা) করতে হয়। কারেন্সি পেয়ার বা ধাতু ট্রেড করার সময় ট্রেডারকে অর্ডার কার্যকর করতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি অ্যাসেটটি কিনতে বা বিক্রি করতে পারেন, আবার লেনদেনটি না করার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন।
ফিউচারস কন্ট্রাক্টের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি কিছুটা আলাদা। কন্ট্রাক্টে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষকে লেনদেন সম্পন্ন করার শর্ত থাকে। অ্যাসেটটির দাম কত হবে, তা এখানে বিবেচ্য নয়। মূল নিয়ম হলো, কন্ট্রাক্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অর্ডার কার্যকর করতে হবে। এভাবেই ফিউচারস ট্রেডিং কাজ করে। স্পেকুলেটর ও হেজাররাই ফিউচারস ব্যবহার করে মুনাফা করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখেন।
অ্যাসেটের দাম বাড়া বা কমার সুবিধা নিতে তারা কন্ট্রাক্ট ব্যবহার করেন। কন্ট্রাক্টের দাম মূলত তখনকার বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। একদিকে, দাম কমবে বলে জানা থাকলে আপনি আপনার অ্যাসেট সুরক্ষিত রাখার সুযোগ পান। এর প্রধান সুবিধা হলো, অ্যাসেট বা পণ্যটি যে দামে বিক্রি করা যাবে, তা আপনি আগে থেকেই জানতে পারবেন।
বর্তমান প্রযুক্তির সাহায্যে সারা বিশ্বের ট্রেডাররা CFD-এর মাধ্যমে আরও দ্রুত ও নিরাপদে ফিউচারস ট্রেড করতে পারেন। MTrading-এ ট্রেডিং করলে শুধু সেরা ট্রেডিং কন্ডিশনগুলোর একটিই নয়, একটি উন্নত ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম এবং সব সময় হাতের কাছে স্থানীয় সাপোর্টও পাবেন।
আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের চুক্তির স্পেসিফিকেশন পেজে যান।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, সফলতার চাবিকাঠি শুধু জনপ্রিয় ও কার্যকর একটি ফিউচার্স ট্রেডিং কৌশল বেছে নেওয়া নয়। আপনার ট্রেডিং স্টাইলের সঙ্গে মানানসই কৌশল নির্ধারণ করাই আসল কথা। স্পেকুলেটর ও হেজার—উভয়ের কাছেই জনপ্রিয় বলে মনে হয়, এমন সেরা 3টি কৌশলের একটি তালিকা আমরা তৈরি করেছি। মনে রাখবেন, মুনাফা করার উপায় শুধু এগুলোই নয়। আপনার সফল হতে সহায়তা করবে বলে মনে হলে, আপনি অন্য কোনো ফিউচার্স ট্রেডিং কৌশলও বেছে নিতে পারেন। নিচের কৌশলগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে আপনি বাধ্য নন।
ফিউচার্স কন্ট্রাক্টে ট্রেড করার জন্য এটি অন্যতম শক্তিশালী কৌশল। দাম পুলব্যাক করলে অর্ডার দেওয়াই এই কৌশলের মূল ধারণা। উদাহরণস্বরূপ, আপনি ট্রেন্ডিং মার্কেটে ট্রেড করছেন। একপর্যায়ে দেখলেন, অ্যাসেটের দাম সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স লেভেলের নিচে বা ওপরে চলে গেছে। এর মানে, দামের দিক বদলেছে এবং লেভেলটি ভেঙে গেছে।
রিটেস্ট শেষ হলে, ট্রেডারের মার্কেটে ঢুকে লং পজিশন নিয়ে একই দিকে ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ড অনুসরণ করার কথা। দাম নিম্নমুখী হলে এবং সুপ্রতিষ্ঠিত সাপোর্ট লেভেলের নিচে নেমে গেলে, তাকে পুলব্যাক বলা হয়। এ সময় ট্রেডারের মার্কেটে ঢুকে শর্ট পজিশন নেওয়া উচিত।
গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেলের মধ্যে দামের ওঠানামা থেকে ট্রেড করতে পছন্দ করলে, আপনি নিজেকে রেঞ্জ ট্রেডার বলতে পারেন। এই কৌশল সব ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট ও অ্যাসেটের ক্ষেত্রে কাজ করে না। সাধারণত, মুদ্রায় ট্রেড করার সময় এটি ব্যবহার করা হয়।
এই কৌশলের মূল ধারণা হলো, সব ট্রেডারেরই অনুভূতি ও আবেগ আছে। বাজার ভেঙে পড়লে বা দাম কমলে তাদের প্রতিক্রিয়া সহজেই অনুমান করা যায়। অন্যভাবে বললে, দাম কোনো নির্দিষ্ট লেভেলের নিচে নেমে গেলে, মার্কেট অংশগ্রহণকারীরা প্রায়ই আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং ওই লেভেলকে রেজিস্ট্যান্স হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন।
অন্যদিকে, দাম আরও নিচে নেমে ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য আরও ভালো দামে কেনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। দাম তলানিতে পৌঁছালে, রেঞ্জ ট্রেডাররা মুনাফা করেন অথবা বিক্রির চাপ বজায় রাখতে এবং দামকে আবার ওপরে উঠতে সাহায্য করতে শর্ট পজিশন খোলেন।
ব্রেকআউট কৌশলটি আরেকটি জনপ্রিয় পদ্ধতি, যা অনেক ফিউচার্স ট্রেডার অনুসরণ করেন। কৌশলটির নাম থেকেই এর ধারণা স্পষ্ট। বাজার ব্রেকআউট করার পর যে ভোলাটিলিটি দেখা দেয়, তা কাজে লাগানোই এর উদ্দেশ্য। “ব্রেকআউট” বলতে সাধারণত বোঝায়, বিভিন্ন টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর দিয়ে চার্টে চিহ্নিত প্যাটার্ন, ট্রেন্ড লাইন ও অন্যান্য লেভেল ভেঙে অ্যাসেটের দাম এগিয়ে যাওয়া।
ফিউচার্স ট্রেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তিনটি কৌশল হলো এগুলো। তবে, লাভের জন্য এগুলোই একমাত্র কৌশল নয়। ট্রেডাররা চাইলে কাউন্টার-ট্রেন্ড ট্রেডিং, ক্রেতা ও বিক্রেতার আগ্রহ, ট্রেন্ড অনুসরণকারী কৌশলসহ আরও কিছু কৌশল বেছে নিতে পারেন।



ফিউচার্স ট্রেডিংয়ের কয়েকটি জনপ্রিয় কৌশল নিয়ে আলোচনা করার পর, এবার দেখা যাক নতুন ও অভিজ্ঞ—উভয় ধরনের ট্রেডারেরই কোন কৌশলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। কার্যকর কৌশল বাজারে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু ভুল পথ বেছে নিলে ব্যর্থ হতে পারেন।
তাই, যেসব ফিউচার্স ট্রেডিং কৌশল এড়িয়ে চলা উচিত, সেগুলো হলো:
বড় ক্ষতি এড়াতে উপযুক্ত ফিউচার্স ট্রেডিং কৌশল বেছে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফিউচার্স ট্রেডারদের মধ্যে জনপ্রিয় নানা কৌশলের মধ্য থেকে আপনি নিশ্চয়ই আপনার ট্রেডিং স্টাইলের সঙ্গে মানানসই একটি বেছে নিতে পারবেন। যাই করুন না কেন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার টুল ব্যবহার করতে ভুলবেন না। সব কৌশলের মধ্যে যে কৌশলে ঝুঁকি সবচেয়ে কম, সেটি দিয়ে শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই, নতুনদের জন্য পুলব্যাক কৌশল দিয়ে শুরু করা একটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।