
সোমবারের শুরুতে ফরেক্স ট্রেডারদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ দেখা যাচ্ছে। তারা উন্নত অর্থনীতিগুলোতে সুদের হার কমার আশায় গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ও ইভেন্টের অপেক্ষায় রয়েছেন—বিশেষ করে শুক্রবারের দুর্বল মার্কিন ডেটার পর। তবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মিশ্র খবর, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বেশিরভাগ ইতিবাচক পরিসংখ্যান এবং ডেটা প্রকাশের আগের উদ্বেগ বাজারের ওঠানামা সীমিত করছে।
এর ফলে, FOMC-র নীরবতার সময়ে ফেডের মূল্যস্ফীতি-সংক্রান্ত অবস্থান নরম হওয়ার প্রভাবে মার্কিন ডলার চাপে রয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) সিদ্ধান্ত প্রায় নিশ্চিত বলে মনে হলেও EURUSD সামান্য বেড়েছে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের মিশ্র তথ্য এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের (BoE) কড়া অবস্থানের কারণে GBPUSD এখনো দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। লক্ষণীয়, সাম্প্রতিক জাপানি তথ্য ও আপডেট ইতিবাচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ইল্ডও কমলেও USDJPY শুক্রবারের পুনরুদ্ধার অব্যাহত রেখেছে। এর কারণ হতে পারে ব্যাংক অফ জাপানের (BoJ) পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা।
অন্যদিকে, AUDUSD আগের দরবৃদ্ধির কিছুটা হারিয়েছে, তবে নিউজিল্যান্ডে ছুটির দিন হলেও NZDUSD ধীরে ধীরে বাড়ছে। এদিকে, শুক্রবারের কানাডার কর্মসংস্থান ডেটার আগে অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় এবং লুনি পেয়ারটি দর সংহত করায় USDCAD দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা দুই দিনের দরপততির ধারা ভেঙেছে।
জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে সরবরাহ হ্রাসের মেয়াদ বাড়ানোর OPEC+ সিদ্ধান্তের পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি দেখাতে পারছে না অপরিশোধিত তেল। এদিকে, প্রধান অর্থনীতিগুলোর জুনের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রানীতির সিদ্ধান্তের আগে ট্রেডাররা আগের লাভ তুলে নেওয়ায় সোনার দামও চাপে রয়েছে।
স্পট ETF অনুমোদন নিয়ে আশাবাদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্রিপ্টোকারেন্সি-বিরোধী কঠোর অবস্থানকে ছাপিয়ে যাওয়ায় BTCUSD এবং ETHUSD-এ ক্রয়ের আগ্রহ বেড়েছে, যা আগের সপ্তাহের লোকসান পুষিয়ে নিতে সাহায্য করছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



শুক্রবারের US Core PCE Price Index—ফেডের পছন্দের মুদ্রাস্ফীতি সূচক—এই সপ্তাহের ISM PMI এবং মাসিক US কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের আগে US Dollar-এর দরপতনের পক্ষে থাকা ট্রেডারদের আকৃষ্ট করছে। আগামী সপ্তাহে জুনের Fed মুদ্রানীতি বৈঠকের ঘোষণা সামনে রেখে FOMC সদস্যদের ‘ব্ল্যাকআউট’ সময়ের সঙ্গেও Greenback-এর দরপতনের যোগ থাকতে পারে।
এদিকে, ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো বাজারের মনোভাবকে প্রভাবিত করছে এবং Fed-এর সুদের হার কমানো পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় মার্কিন ডলারের দরপতনে বাধা তৈরি হচ্ছে। তবে চীনের প্রণোদনা-সংক্রান্ত খবর এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বেশিরভাগ ইতিবাচক ডেটা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রার ট্রেডারদের আগ্রহ ধরে রেখেছে, যদিও পণ্যমূল্য দুর্বল মার্কিন ডলার থেকে সমর্থন পাচ্ছে না।
চীনের প্রসঙ্গে, দেশটি সম্প্রতি গাড়ি বদলে নতুন গাড়ি কেনার জন্য 6.4 বিলিয়ন ইউয়ানের ভর্তুকি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে প্রণোদনার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির ঋণবাজারে ধসের আশঙ্কা বাড়ায়, সংকটে থাকা আবাসন খাতকে সহায়তা করতে বেইজিং এর আগে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল।
লক্ষ্য করার বিষয়, মে মাসের চীনের সরকারি PMI শুক্রবার পণ্যদ্রব্যের ক্রেতাদের হতাশ করেছিল। তবে, ওই মাসের Caixin PMI সোমবার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়া এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দরপতন ঠেকানোর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ভূরাজনীতি প্রসঙ্গে, চীনের অভিযোগ, যুক্তরাজ্যের ‘Chinese Central State Organs’-এর মধ্যে দুজন গুপ্তচর রয়েছে। এতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। একই সঙ্গে, হামাস গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো মেনে নিলেও ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
এর ফলে, টানা দুই দিন দরপতনের পর US Dollar Index (DXY) এখনো চাপের মুখে রয়েছে। এদিকে, সোনা ও অপরিশোধিত তেলের দাম যথাক্রমে টানা দ্বিতীয় ও চতুর্থ দিনের মতো কমেছে। উল্লেখ্য, চীন থেকে জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে OPEC+-এর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে পারছে না অপরিশোধিত তেলের বাজার। সপ্তাহান্তে OPEC+ জোটের সদস্যরা আগের সরবরাহ কমানোর চুক্তির মেয়াদ 2024 সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। 2025 সালে ধাপে ধাপে সেই কমানো সরবরাহ ফিরিয়ে আনা হবে। তবে, চাহিদা কমে যাওয়া এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার আশঙ্কা কালো সোনার দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে, US Dollar দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও XAUUSD নিম্নস্তরে রয়েছে। চীনের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ, সোনার দামে দর সংহত হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা ও কর্মসংস্থান/মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বাজারে সতর্কতা—সবই এর পেছনে ভূমিকা রাখছে।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং চীনের প্রণোদনার খবরে কমোডিটিগুলো তেমন সাড়া না দিলেও, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার ডলার গত দুই দিনে পাওয়া দরবৃদ্ধি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
মেলবোর্ন ইনস্টিটিউটের অস্ট্রেলিয়ার মূল্যস্ফীতি সূচক মে মাসের আগের পরিমাপগুলোকে ছাড়িয়ে বেড়েছে। তবে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং মাসিক PMI-তে উন্নতির খবর—যদিও সূচকগুলো এখনও সংকোচনের অঞ্চলে রয়েছে—AUDUSD-র দর ওঠানামা সীমিত করছে। মিশ্র বাজার পরিস্থিতি ও সতর্ক মনোভাবের মধ্যেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে ছুটির দিনটিও NZDUSD-র দর ওঠানামা সীমিত করছে। অন্যদিকে, তেলের দর দুর্বল এবং ফেড ও কানাডা ব্যাংকের (BoC) নীতিগত পার্থক্য নিয়ে বাজারের মনোভাব মিশ্র থাকায় USDCAD স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাচ্ছে না।
অন্যদিকে, EURUSD টানা তৃতীয় দিনের মতো বাড়ছে। ইউরো ট্রেডাররা এ সপ্তাহে European Central Bank-এর (ECB) সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ডেটার জন্য অপেক্ষা করছেন। বিশেষ করে, ECB সুদের হার কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এদিকে, যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান BoE-এর কড়া অবস্থানকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট না হওয়ায় GBPUSD-ও নিম্নমুখী চাপের মুখে রয়েছে।
এদিকে, জাপানের ইতিবাচক অনুঘটক থাকা সত্ত্বেও USDJPY সামান্য বেড়েছে। দিনের শুরুতে জাপানের অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়োশিতাকা শিন্দোর একটি মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে আসে: “FY 2025-এ অর্থনীতির প্রকৃত প্রবৃদ্ধি 1.3% হওয়া অসম্ভব নয়।” নীতিনির্ধারকের এই মন্তব্য, Treasury bond-এর দুর্বল ইল্ড এবং Jibun Bank Manufacturing PMI-এর উন্নত পরিসংখ্যান USDJPY-এর দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে—বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ঘটনার আগে US Dollar যখন ওঠানামা করছে। এদিকে, মে মাসে জাপানের Jibun Bank Manufacturing PMI-এর চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে এক বছরে প্রথমবারের মতো সম্প্রসারণ দেখা গেছে।
মে মাসের US ও কানাডার কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্য এবং ECB-এর মুদ্রানীতি বৈঠকের ঘোষণা সামনে থাকায়, এসব ইভেন্টের আগে ট্রেডাররা সতর্ক থাকতে পারেন। তবে আজকের মে মাসের US ISM Manufacturing PMI ইনট্রাডে ট্রেডারদের আগ্রহ জাগাতে পারে। ISM Services PMI, অস্ট্রেলিয়ার GDP এবং সুইজারল্যান্ডের মুদ্রাস্ফীতির তথ্যও ট্রেডারদের নজরে রাখা উচিত। তাছাড়া, ইতিবাচক তথ্য প্রকাশিত হলে US ডলার আগের সপ্তাহের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারে। তবে আগামী সপ্তাহের FOMC মুদ্রানীতি বৈঠকের আগে Fed নীতিনির্ধারকেরা “blackout” সময়ে থাকায়, ডলারের ওঠানামা সীমিত হতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!