লগ আউট
Are you sure you want to exist?
MTrading Team • আজ

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ ও ফেডের মূল্যস্ফীতির দুশ্চিন্তার মধ্যে সোনার দামে সর্বকালের সর্বোচ্চ উত্থান

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ ও ফেডের মূল্যস্ফীতির দুশ্চিন্তার মধ্যে সোনার দামে সর্বকালের সর্বোচ্চ উত্থান

ভূরাজনীতি ও শুল্ক নিয়ে মিশ্র খবর এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে উদ্বেগে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমছে

US ডলারের বিকল্প হিসেবে নতুন মুদ্রা তৈরি বা সেটিকে সমর্থন করলে BRICS দেশগুলোর ওপর 100% শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন US প্রেসিডেন্ট Donald Trump। চীন, কানাডা ও মেক্সিকোকেও বাণিজ্য নিয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। এতে বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। তবে প্রকৃত শুল্ক আরোপের ঘোষণা না আসা, প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল US GDP প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির মৃদু ইঙ্গিত—এসব কারণে ট্রেডাররা সতর্ক আশাবাদী থাকতে পেরেছেন। তাঁরা আজকের US Core PCE Price Index-এর জন্য অপেক্ষা করছেন, যা Fed-এর পছন্দের মূল্যস্ফীতি পরিমাপক।

এদিকে, রুশ বোমারু বিমান জাপানের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে প্রবেশ করায় এবং জাপান যুদ্ধবিমান পাঠানোয় উত্তেজনা বেড়ে যায়, ফলে ঝুঁকি নিয়ে বাজারের মনোভাব অস্থির থাকে। ভূরাজনৈতিক ও শুল্ক-সংক্রান্ত এসব উদ্বেগ সত্ত্বেও, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার কমানোর সহায়তায় মার্কিন ডলার শক্তিশালী ছিল। তবে ফেডের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে গ্রিনব্যাক এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখে।

EURUSD-এ বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ, GBPUSD-তে ধীরগতি, আর USDJPY-তে দর ফিরে আসছে

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) সুদের হার কমানো এবং প্রেসিডেন্ট Christine Lagarde-এর আরও এমন পদক্ষেপের ইঙ্গিত—দুটিই EURUSD-কে টানা পঞ্চম দিনের মতো চাপে রেখেছে, যদিও মার্কিন ডলারের লেনদেন ছিল মিশ্র। এই প্রবণতা ইউরোজোন এবং এর অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি জার্মানির দুর্বল প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানকে প্রতিফলিত করে।

যুক্তরাজ্যে Lloyds Bank Business Barometer-এর হতাশাবাদী ফল GBPUSD-এর ঘুরে দাঁড়ানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং সুদ কমানোর পক্ষপাতী Bank of England নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কারেন্সি পেয়ারটি সাপ্তাহিক দরপতনের দিকে এগিয়েছে।

এদিকে, আজ দেড় মাসের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে সামান্য ঘুরে দাঁড়ালেও USDJPY-তে তিন সপ্তাহের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। তবে খুচরা বিক্রি, শিল্প উৎপাদন ও বেকারত্বের হারসহ জাপানের মিশ্র তথ্য-উপাত্ত JPY ক্রেতাদের চাপে ফেলছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবার যুক্তরাষ্ট্রে আরও বিনিয়োগের ইঙ্গিত দেওয়া মন্তব্যও USDJPY-এর ওঠানামায় গতি জুগিয়েছে। এর পাশাপাশি, ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) নীতি আরও কঠোর করার প্রত্যাশা বাড়া এবং JPY-এর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিতি—দুটিই এই পেয়ারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

AUDUSD ও NZDUSD-এর টানা দুই সপ্তাহের উত্থান থেমেছে, USDCAD বহু বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি

চীনা ট্রেডাররা চন্দ্র নববর্ষ উদ্‌যাপনে ব্যস্ত থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন শুল্ক আরোপের হুমকি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তাদের বৃহত্তম ক্রেতাদের অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের কারণে পণ্য-সংশ্লিষ্ট মুদ্রাগুলো দুর্বল হয়েছে। সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক এসব কারণের পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়ার কম PPI, Reserve Bank of New Zealand ও Bank of Canada (BoC)-এর নীতিতে সুদের হার কমানোর ঝোঁক এবং অপরিশোধিত তেলের দুর্বল দামও অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD), নিউজিল্যান্ড ডলার (NZD) ও কানাডিয়ান ডলারের (CAD) ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করছে।

বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যেও শক্তিশালী US Dollar-কে উপেক্ষা করে Gold নতুন রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্রের মিশ্র অর্থনৈতিক তথ্য, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং চীন ও ভারত থেকে বাড়তি চাহিদার কারণে শুক্রবারের শুরুতেই সোনার দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ $2,800-এ পৌঁছেছে। এছাড়া, সোনা $2,785-90-এর রেজিস্ট্যান্স ভেঙে পাঁচ সপ্তাহের বুলিশ চ্যানেলের মধ্যে রয়েছে, যার সীমা $2,825 থেকে $2,759। এতে বুলিশ প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। পাশাপাশি, নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার আকর্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে সতর্ক মনোভাব এর ঊর্ধ্বমুখী গতি আরও বাড়িয়েছে; ট্রেডাররা এখন ফলাফলের অপেক্ষায়।

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

ক্রুড অয়েল ক্ষতি সামলে উঠছে, ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো গতি পেতে হিমশিম খাচ্ছে

ক্রুড অয়েলের দাম মাসিক সর্বনিম্নের কাছাকাছি রয়েছে এবং বাজারে এর তেমন নড়াচড়া নেই। দৈনিক সামান্য লাভে সাপ্তাহিক লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নিতে পেরেছে। সামগ্রিক ঝুঁকিবিমুখ মনোভাব, জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাপ এবং চীনে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় পণ্যটির দামের ওপর চাপ রয়েছে। সাম্প্রতিক সেশনগুলোতে সামান্য পুনরুদ্ধার দেখা গেলেও এসব কারণ তেলের দামকে চাপের মধ্যে রেখেছে।

অন্যদিকে, কোনো EU দেশের আর্থিক রিজার্ভে Bitcoin অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ECB প্রেসিডেন্ট Lagarde প্রত্যাখ্যান করায় সাম্প্রতিক সময়ে Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর ক্রেতারা চাপে পড়েছেন। তবে Trump-নেতৃত্বাধীন শিল্পখাতের অগ্রগতি এবং Bitcoin ও Ethereum ETF-এ বাড়তি আগ্রহ থেকে তৈরি আশাবাদ এই ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর দামকে সপ্তাহজুড়ে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে।

প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ ওঠানামা

  • WTI ক্রুড অয়েল মাসিক সর্বনিম্ন স্তর থেকে আগের দিনের পুনরুদ্ধার ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। লেখার সময় দাম $73.30-এর কাছাকাছি, সামান্য ঊর্ধ্বমুখী।
  • সর্বকালের সর্বোচ্চ দাম প্রায় $2,800-এ পৌঁছানোর পর স্বর্ণের দাম $2,795-এর কাছাকাছি ওঠানামা করছে।
  • বুল ও বেয়ারের টানাপোড়েনে USD Index 108.15-এর কাছাকাছি স্থির রয়েছে। তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির আশায় বাজার অপেক্ষা করছে।
  • ওয়াল স্ট্রিট সামান্য লাভে বন্ধ হয়েছে, আর এশিয়া-প্যাসিফিকের শেয়ারবাজারে কিছুটা উত্থান দেখা গেছে। ইউরোপীয় ও যুক্তরাজ্যের বাজারেও প্রাথমিক ট্রেডিংয়ের সময় সামান্য ক্রয়চাপ দেখা যাচ্ছে।
  • BTCUSD-এর দাম প্রায় $105,00-এ সামান্য কমেছে, ফলে সাপ্তাহিক লাভ কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, ETHUSD টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়ে সর্বশেষ প্রায় $3,270-এ রয়েছে।

ফেডের মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনের দিকে সবার নজর…

যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি নিয়ে মিশ্র সংকেত আসছে এবং ফেডের বক্তব্যে হকিশ অবস্থানের সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে সমস্যা হচ্ছে। তাই বাজারের অংশগ্রহণকারীরা আরও স্পষ্ট দিকনির্দেশনার জন্য ডিসেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের Core PCE Price Index-এর দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন। পূর্বাভাসে মাসওয়ারি 0.2% সামান্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত রয়েছে, আর বছরওয়ারি হার 2.8%-এ অপরিবর্তিত থাকার কথা। ফলাফল দুর্বল হলে তা ফেডের হকিশ অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং গোল্ড ক্রেতাদের সুবিধা দিতে পারে। প্রাথমিক সংকেতগুলো নেতিবাচক ছিল। তাই +0.2% বা -0.1%—যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যতক্ষণ না বাজার যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের পতন ও গোল্ডের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যের পাশাপাশি, জার্মানির খুচরা বিক্রয় ও মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান এবং কানাডার মাসিক GDP মোমেন্টাম ট্রেডারদের নজর কাড়বে। তবে, ECB ও BoC-এর ডোভিশ অবস্থান এবং ইউরোজোন ও কানাডাকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সেই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ায়, এই পরিসংখ্যানগুলো ইউরো (EUR) ও কানাডিয়ান ডলারের (CAD) বর্তমান দুর্বলতা বদলাবে বলে মনে হয় না।

শীর্ষস্থানীয় অ্যাসেটগুলোর পূর্বাভাস

  • উত্থানের সম্ভাবনা: USDCAD, USDJPY, Gold, Silver
  • আরও দরপতনের সম্ভাবনা: AUDUSD, NZDUSD, GBPUSD
  • পার্শ্বমুখী চলাচলের প্রত্যাশা: Nasdaq, Gold, DJI30, USDCNH
  • ধীরগতির & ক্রমশ পতনের আশঙ্কা: DAX, FTSE 100, EURUSD, ক্রুড অয়েল, GBPUSD

ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!